টিপসস্বাস্থ্য

লিচু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা- এই বিষয়গুলো জেনে রাখুন

লিচু অনেক জনপ্রিয় একটি ফল বিশেষ করে বাচ্চাদের কাছে এই ফলটি অনেক জনপ্রিয়। লিচু আকারে অনেক ছোট তবে এটি খেতে অনেক সুস্বাদু। ছোট বড় সকলের চাহিদার মধ্যেই থাকে এই ফলটি। ছোট এই ফলটির অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আমরা এই পোস্টে লিচুর কিছু উপকারিতা দিকগুলো ও অপকারিতা দিকগুলো তুলে ধরেছি। আশা করি আজকের এই পোস্ট থেকে খুব সহজেই লিচুর উপকারিতা দিক ও অপকারিতা দিকগুলো জানতে পারবেন।

গ্রীষ্মকালীন এই রসালো ফলটি সকলের কাছে জনপ্রিয়। এর অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে যা আমাদের শরীর সুস্থ ও সবর রাখতে সাহায্য করে। লিচু বিভিন্ন রোগ থেকেও মুক্ত রাখে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করে। এর সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে তুলে। নানা রকম অসুখের থেকে দূরে রাখবে লিচু। লিচু খাওয়ার আগে এর উপকারিতাগুলো সম্পর্কেও জেনে নিন

লিচু খাওয়ার নিয়ম

লিচু রসালো ফল এই ফলটি সকলের চাহিদের মধ্যে থাকে। এই ফলটি খুব সহজেই খাওয়া যায় আকারে ছোট হওয়ার কারণে। ছোট বড় সকলের কাছে এর জনপ্রিয়তা অনেক। তবে লিচু খাওয়ার কিছু নিয়ম জেনে রাখা উচিত। আপনি যে খাবার খাচ্ছেন সে খাবার দ্বারা আপনার উপকার হচ্ছে কিনা সেটি অবশ্যই জেনে রাখা উচিত। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক লিচু খাওয়ার নিয়ম।

লিচু অনেক মজাদার এবং সাথে পুষ্টি ভরপুর। তবে লিচু খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। সকালে নাস্তা খাওয়ার পর লিচু খাওয়া উচিত। এর সাথে কাঁচা বা আধ পাকা লিচু খাওয়া নিষেধ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বাচ্চাদের খালি পেটে লিচু দেওয়া হয় যা মোটেও ঠিক কাজ নয়। শিশুদের খালি পেটে লিচু খাওয়া নিষেধ কারণ তাদের দেহের বিপাকক্রিয়া পরিপক্ব নয়। তাই বলা যায় বাচ্চাদেরকে খালি পেটে লিচু খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।

লিচুর পুষ্টিগুণ

ফল খেতে পছন্দ করে অথচ লিচু খেতে পছন্দ করে না এরকম মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। লিচুর চাহিদা অনেকটাই বেশি। বাজারে কিছুদিনের জন্য এই ফলটি পাওয়া যায়, বিভিন্ন ধরনের লিচু পাওয়া যায়। লিচু স্বাদে যেমন ভরপুর তেমনি পুষ্টিগুনে ভরপুর। লিচুর পুষ্টিগুণ শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক সম্পর্কে।

শরীর সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে ভিটামিন যা লিচুতে রয়েছে। লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ফ্ল্যাভোনয়েড,রয়েছে প্রচুর মিনারেল। এর বাইরে এতে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে খুব অল্প পরিমাণে। পাশপাশি এতে ক্যালরিও কম, ক্যালোরি মাত্রা কম থাকার ফলে সকলের জন্য স্বাস্থ্যকর একটি ফল। দেখা গেছে, ১০০ গ্রাম লিচুতে থাকে শর্করা ১৩.৬ গ্রাম, ক্যালরি ৬১, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৭ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন ‘সি’ ৩১ মিলিগ্রাম। ১০০ গ্রাম লিচু বলতে মাঝারি আকারের প্রায় ১০টি লিচুকে বোঝায়। মার্কিন ওষুধ প্রশাসন বিভাগ বলছে, প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ৬৬ কিলোক্যালরি শক্তি ও ১৬ গ্রাম শর্করা রয়েছে। চর্বি একেবারেই নেই। আরও আছে ৭১ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ১৭০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১৪ মাইক্রোগ্রাম ফলেট এবং সামান্য পরিমাণ (১মিলিগ্রাম) সোডিয়াম।

তাই বলা যায় লিচুর এই পুষ্টিগুণগুলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই কার্যকারী। আমাদের সকলেরই উচিত এই ফলটি যতটুকু সম্ভব খাওয়া এর পাশাপাশি আরো বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া উচিত। কারণ শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ফল তাই অসাস্থ্যকর কোন খাবার না খাওয়াই ভালো।

লিচু খাওয়ার উপকারিতা কি

লিচু খাওয়ার উপকারিতা জানে রাখা প্রয়োজন। লিচুর বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে যা আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক লিচু খাওয়ার উপকারিতা কি।

লিচু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে তোলে,লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, নিয়াসিন, বিটা ক্যারোটিন, রিবোফ্লাভিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়ক। হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে, বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করে, হাড়ের গঠন মজবুত করে, ওজন কমায়।

তাই বলা যায় লিচু স্বাদে ভরপুর এবং এর গুনাগুলো ভরপুর। লিচুর এই উপকারিতা পাওয়ার জন্য অবশ্যই আমাদের লিচু খেতে হবে।

লিচু খাওয়ার উপকারিতা

লিচু খেতে অনেক সুস্বাদু সুস্বাদু এই ফলের উপকারিতা ও রয়েছে। আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য এই ফলের অনেক ভূমিকা রয়েছে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক লিচু খাওয়ার উপকারিতা দিকগুলো।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে– শরীর সুস্থ রাখার জন্য হজম শক্তি বাড়িয়ে তোলাটা জরুরি, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে তোলে লিচু। লিচুতে আছে কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার। যা হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে তাই যাদের হজম শক্তি দুর্বল তারা নিয়মিত লিচু খেতে পারেন।

হাড় মজবুত রাখে– বয়সের সাথে সাথে হাড়ের সমস্যা তৈরি হয়। হাড়ের সমস্যা দূর করার জন্য লিচুর ভূমিকা রয়েছে। লিচুতে থাকে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ এবং কপার। এসব উপাদান হাড়ের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিচু খেলে কমে হাড়ের ভঙ্গুরতা। সেইসঙ্গে হ্রাস পায় অস্টিওপোরোসিস ও ফ্র্যাকচারের সম্ভাবনাও। তাই হাড় ভালো রাখতে লিচুর খেতে পারেন সুমিষ্ট এই ফল।

ব্যথা দূর করে– শরীরের বিভিন্ন ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে লিচু। যাদের পূর্বে থেকে শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা রয়েছে ব্যথা দূর করতে অনেকটাই সহায়তা করবে। লিচু একটি কার্যকরী ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এটি খেলে কমে প্রদাহ। সেইসঙ্গে এটি টিস্যুর ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি করে– শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা জরুরি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ফল রয়েছে এর মধ্যে লিচু একটি। নিয়মিত লিচু খেতে পারলে সর্দি কাশি থেকে মুক্ত থাকা যায়।

কিডনির সুরক্ষায়– কিডনির সুরকার বিভিন্ন ফল রয়েছে এর মধ্যে লিচু একটি। লিচুতে পর্যাপ্ত পানি এবং পটাসিয়াম থাকায়, কিডনিতে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এই ফল ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্বও কমায়। যে কারণে কমে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি।

ওজন কমায়– অতিরিক্ত মেদ হওয়ার কারণে অনেকেই খাওয়া কমিয়ে ফেলে। তবে লিচু শরীরের মেদ কমাতে সাহায্য করে। তাই খাদ্য তালিকায় লিচু রাখা যেতে পারে। যে খাবারে ক্যালরির মাত্রা বেশি সে খাবার ওজন বৃদ্ধি করে, তবে লিচুতে ক্যালরির মাত্রা কম থাকায় ওজন কমাতে সাহায্য করে। আঁশযুক্ত হওয়ায় লিচু খেলে তা দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। নিয়মিত লিচু খেলে হজমশক্তি উন্নত হয়।

হার্ট ভালো রাখে– হার্ট ভালো রাখাতে সহায়ক লিচু। এতে অলিগোনল থাকে; যা নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে এই নাইট্রিক অক্সাইড। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ভাসকুলার ফাংশন উন্নত করে। ফলে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সহজ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত লিচু খেলে হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ। তাই বলা যায় নিয়মিত লিচু খাওয়া যায়।

ভিটামিন বি সমৃদ্ধ- লিচুতে পাওয়া যায় ভিটামিন সি, কে, ই এবং বি৬। এতে আছে রাইবোফ্লাভিন এবং নিয়াসিন। গ্রীষ্মে নিয়মিত লিচু খেলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি৬ এর দশ শতাংশ পাওয়া যায়। এ ভিটামিন শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করে। সঙ্গে রক্ষা করে প্রদাহজনিত রোগ থেকে। তাই শরীর সুস্থ রাখার জন্য লিচুর ভূমিকা রয়েছে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়– লিচু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়লে তোলার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। লিচুতে থাকা পলিফেনল, অলিগনোল, বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বককে উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যকর করতে কার্যকর।

চোখের সুরক্ষায়– ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। ভিটামিন এ এর ঘাটতি পূরণ করে লিচুতে রয়েছে ভিটামিন এ। এর ফলে চোখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রাতকানা রোগ থেকে দূরে করে এর পাশাপাশি চোখ ওঠা, চোখের কোনা ফুলে লাল হয়ে যাওয়া দূর করে।

লিচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম যেটি আমাদের রক্ত ও নালীর চাপ কমিয়ে রক্তের স্বাভাবিক গতি বৃদ্ধি করে। তাই লিচু সেবনের একটি উপকার হল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকা।

তাই বলা যায় লিচু একটি উপকারী ফল যা আমাদের শরীরের ভিটামিনের অভাব দূর করতে সাহায্য করে। এবং শরীর সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে।

লিচুর উপকারিতা ও অপকারিতা

আমরা উপরে থেকে জেনেছি লিচু খাওয়ার উপকারিতা দিকগুলো। তাহলে চলুন এখন জেনে নেওয়া যাক লিচু খাওয়ার কিছু অপকারিতা দিক। কাদের ক্ষেত্রে লিচু খাওয়ার পূর্বে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আশা করা যায় এই পোস্ট থেকে জানতে পারবেন।

রক্ত চাপ পড়ে যায়– লিচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম যেটি আমাদের রক্ত ও নালীর চাপ কমায়। মাত্রাতিরিক্ত লিচু খেলে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। লক্ষণ হিসাবে শ্বাসকষ্ট হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, মাতাহ ঘুরানো, বমি ভাব ইত্যাদি হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে খেয়াল রাখা উচিত।

সার্জারির রোগীদের অতিরিক্ত লিচু খাওয়ার ঝুঁকি: রক্তচাপ এবং রক্তের গ্লুকোজের ওপর সরাসরি প্রভাব থাকাতে যাদের সার্জারির প্রয়োজন তারা সার্জারির পূর্বের দুই সপ্তাহ এবং পরের দুই সপ্তাহ লিচু খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। তাই এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত।

লিচুর উপকারিতা ও অপকারিতা

লিচু খেলে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে- লিচু একটানা বেশ কয়েকদিন পরিমানের বেশি লিচু খেলে নানা রোগ যেমন রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস, মাল্টিপল স্ক্লেরসিস, লুপাস ইত্যাদি রোগ থাকলে তা বেড়ে যেতে পারে অতিমাত্রায় আমাদের ইমিউনিটি বেড়ে যাওয়ার ফলে।

তাই বলা যায় লিচু খাবার পূর্বে এসব বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত। শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য অবশ্যই লিচু খেতে হবে। তবে পরিমাণ মতো খেতে হবে যাতে করে শরীর ভালো থাকে।

শেষ কথা

আমরা চেষ্টা করেছি আজকের এই পোস্টে তুলে ধরার লিচু খাওয়ার কিছু উপকারিতা দিক ও অপকারিতা দিকগুলো তুলে ধরার। আশা করা যায় আজকের এই পোস্ট থেকে আপনি খুব সহজে জানতে পেরেছেন। যদি আজকে এই পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে। তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে স্বাস্থ্য বিষয়ে আর্টিকেল পড়তে পারেন।

আরও দেখুনঃ

তরমুজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

জাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা – কমলা খাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন

দই খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আপেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা – আপেল খাওয়ার ক্ষেত্রে যা জানা দরকার

এলোভেরার উপকারিতা ও অপকারিতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button