টিপসস্বাস্থ্য

আপেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা – আপেল খাওয়ার ক্ষেত্রে যা জানা দরকার

আমরা সাধারণত বাজারে দুই ধরনের আপেল দেখি লাল ও সবুজ রঙের। লাল রঙের আপেলের জনপ্রিয়তা বেশি তাই লাল রঙের আপেল বেশি খাওয়া হয়। তবে আমরা অনেকেই এর উপকারিতা ও অপকারিতা দিকগুলো জানিনা। তাই আমরা আজকের এই পোস্টে তুলে ধরার চেষ্টা করব আপেলের উপকারিতা দিক ও অপকারিতা দিক ।

আপনারা যেন খুব সহজেই বুঝতে পারেন তার জন্য সারসংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে এবং কয়েকটি বিষয়ে বিভক্ত করে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। এর জন্য অবশ্যই সম্পূর্ণ আর্টিকেল পড়তে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক আপেলর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা।

আপেল খাওয়ার উপকারিতা কি

আমরা অনেকেই জানি আপেল খাওয়ার উপকারিতা কি আবার অনেকেই জানিনা। শরীর সুস্থ ও সবল রাখার জন্য আপেলের উপকারিতা অনেক। তাহলে জেনে নেওয়া যাক আপেলের উপকারিতা কি?

আপেল বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

১-আপেল ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখে

২-রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে

৩-হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে

৪-স্নায়ুবিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়

৫-ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

৬-অন্ত্রের সুস্বাস্থ্যে জন্য খুবই কার্যকরী

৭-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

৮-হাঁপানির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে

৯-দাঁত সাদা করার ক্ষেত্রে আপেলের গুরুত্ব অনেক

১০-দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে আপেলের গুরুত্ব অনেক

১১-ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষার ক্ষেত্রে আপেল খাওয়া খুবই উপকারী

আপেল খাওয়ার উপকারিতা কি

আপেলের এই গুনাগুন বৈশিষ্ট্য গুলো আমরা নিচে সুন্দর করে তুলে ধরেছি। আশা করি এই বিষয়গুলো আপনারা খুব সহজেই জানতে পারবেন। আপেলের গুনাগুন সম্পর্কে জানতে নিচ থেকে সংগ্রহ করে নিন।

প্রতিদিন আপেল খাওয়ার উপকারিতা

শরীর সুস্থ ও সরবর রাখার জন্য অন্তত প্রতিদিন একটি হলেও আপেল খান তাহলে শরীর সুস্থ ও সবল রাখতে পারবেন।

আপেলে থাকা ফাইবার যা অন্ত্রের ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা সঠিক থাকে। আর একবার শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে শুরু করলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে।

আপেল ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখে– আমরা অনেকেই জানিনা যে আপেল খাওয়ার ফলে শরীর স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য আপেলের উপকারিতা অনেক। পানি আর ভোজ্য আঁশ, যা পেট ভরা রাখে লম্বা সময়। যেকোনো বেলার খাবার খাওয়ার আগে কয়েক টুকরা আপেল খেয়ে নিলে পেট ভরবে অল্পতেই। ফলে প্রায় দুইশত ক্যালরি পর্যন্ত কম গ্রহণ করবেন।

আপেল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়– এমন অনেক খাবার হয়েছে যে খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে এর মধ্যে হচ্ছে আপেল একটি খাবার। আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আপেলের গুরুত্ব অনেক। আপেলে থাকা- কোয়েরসেটিন- যা প্রদাহ কমাতেও সহায়ক হবে। এক্ষেত্রে আপেলের খোসা সহ খেতে হবে।

হৃদরোগ ঝুঁকি কমায়– যারা হৃদ রোগে ভুগছেন হৃদরোগে আশঙ্কায় আছেন তারা আপেল খেতে পারেন। আপেলে থাকা-আপেলে থাকা ‘ফ্লাভানয়েড’ ‘স্ট্রোক’য়ের ‍ঝুঁকি কমায় প্রায় বিশ শতাংশ। আবার কোলেস্টেরল কমাতেও আপেলের ভূমিকা আছে।

স্নায়ুবিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়– আপেলে রয়েছে নারান পোষ্ট জীবন এই পুষ্টি গুণের মাধ্যমে স্নায়ুবিক স্বাস্থ্য রক্ষার্থে ভূমিকা অনেক। আপেলের থাকা কোয়েরসেটিন’য়ের মাঝে ‘নিউরোপ্রোটেক্টিভ’ প্রভাব পেয়েছেন গবেষকরা। ফলে আপেল নিয়মিত খাওয়ার কারণে মস্তিষ্কের ‘নিউরন’গুলো আরও বেশিসময় কর্মক্ষম থাকবে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় -অনেকেই ধূমপানে আসক্ত, আমরা জানি ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ যা ক্যান্সারের দিক। এক্ষেত্রে আপেল আপনার ক্যান্সার রোগ নিয়ন্ত্রণে অনেক কার্যকারী আপেলে থাকা ‘ফাইটোকেমিকেল’ ও আঁশ থেকে ‘অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’য়ের সুবিধা মেলে, যা কোষকে বিভিন্ন ক্ষয় থেকে সুরক্ষা দেয়। একাধিক গবেষণা দেখা গেছে। কিছু কথা না বললেই নয় যারা ধূমপান করেন, ধূমপান করা অনেক ক্ষতিকর তাই এই ক্ষতিকর দিক থেকে রক্ষার জন্য নিজেকে ধূমপান থেকে বিরত রাখতে হবে।

অন্ত্রের সুস্বাস্থ্যে জন্য খুবই কার্যকরী– আপেলে রয়েছে প্রোবায়োটিক’ উপাদান হল ‘পেকটিন’ এর ফলে অন্ত্রের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। যেমন- হুটহাট পেট ব্যথা, পেট ফোলা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদির ব্যাখ্যা হয়ত অন্ত্রের সমস্যাই। যা আপেল খাওয়ার মাধ্যমে অনেকটাই কমে যায়।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

প্রতিদিন একটি করে আপেল খেতে পারলেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়। বিশেষজ্ঞদের দাবি প্রতিদিন একটি করে আপেল খেতে পারলে ডায়াবেটিস রোগ কমে যায় প্রায় আটাশ শতাংশ।

হাঁপানির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে– অ্যাডভান্সেস ইন নিউট্রিশন’ জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়। প্রায় আটষট্টি হাজার নারীকে নিয়ে করা গবেষণায় দেখা যায়, যারা দিনে একটি আস্ত আপেল গ্রহণ করেছেন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তাদের হাঁপানির তীব্রতা কমেছে সবচাইতে বেশি। তাই আপনি প্রতিদিন বা প্রতি মাসে কি পরিমাণ আপেল খাচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে হাঁপানি তীব্রতা কমে। যারা দিনে একটি আপেলর পনেরো শতাংশ আপেল খেয়েছেন তাদের রোগের তীব্রতা কমেছে প্রায় দশ শতাংশ।

দাঁত সাদা করার ক্ষেত্রে আপেলের গুরুত্ব অনেক-দাঁতের যত্নে আপেল খাওয়ার গুরুত্বটা অনেক। আপেল দাঁতের হলদে ভাব দূর করার জন্য খুবই কার্যকরী। আপেল চিবানো সময় তা দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণা এবং দাঁতের ওপরের হলদেটে আস্তর পরিষ্কার করে। আপেলে অম্লীয় গুণই এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে আপেলের গুরুত্ব অনেক– আপেলের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস যার দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং চোখের বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।

ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষার ক্ষেত্রে আপেল খাওয়া খুবই উপকারী– আপেল খাওয়ার পাশাপাশি রূপচর্চার ক্ষেত্রেও অনেক কার্যকার আপেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের তরুণ ও সতেজ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এটি ত্বকের ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তোলে। আপেল পেস্ট এর সাথে দুধ এবং মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ইনস্ট্যান্ট ত্বক ফর্সা করে তোলে।

আশা করি উপরের উল্লেখ্য বিষয়গুলো আপনারা খুব মনোযোগ সহকারে পড়েছেন এবং আপেলের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। অনেকে জানতে চান লাল আপেল খাওয়ার উপকারিতা যা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে

লাল আপেলের উপকারিতা

লাল আপেল খেতে অনেকের মিষ্টি। লাল আপেল এর খোসা পাতলা ও রসালো হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পেকটিন, ফ্ল্যাভনয়েড থাকায় এটি সেলকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া স্বাদে সুস্বাদু এই ফলটি হৃদরোগের জন্যও ভালো। নিয়মিত এই ফল খেলে হজমশক্তি বাড়ে ও লিভার ভালো থাকে। আপেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার ও পেকটিন থাকায় এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়।

লাল আপেলে অনেক বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যাদের ডায়েটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রয়োজন, তারা লাল আপেল খেতে পারেন।

সবুজ আপেলের উপকারিতা

আমরা সাধারণত দুই ধরনের আপেলের সাথে পরিচিত লাল ও সবুজা আপেলের সাথে পরিচিত। সবুজ আপেলের খোসা মোটা এবং খেতে কিছুটা টক। এ আপেল কিছুটা মচমচে যা লাল রঙের আপেলের সাথে ভিন্ন। সবুজ আপেল ভিটামিন এ, বি, সি, ই ও কে পাওয়া যায়। লাল আপেলের থেকে বেশি আয়রন পাওয়া যায়। এতে পটাশিয়াম ও প্রোটিনও বেশি পরিমাণে থাকে।

তাই বিশেষজ্ঞদের মতে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে চাইলে লাল আপেলের পরিবর্তে সবুজ আপেল খেতে পারেন। আর লাল আপেলে অনেক বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যাদের ডায়েটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রয়োজন, তারা লাল আপেল খেতে পারেন। দুই ধরনের আপেল খাওয়ার উপকারিতা তবে বিশেষজ্ঞদের মতে লাল আপেলের চেয়ে সবুজ আপেলের গুনাগুন কিছুটা বেশি।

আপেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আমরা উপরে আপেল খাওয়ার উপকারিতা দিকগুলো তুলে ধরেছি। আশা করি আপনারা খুব সহজেই উপকার দিকগুলো জানতে পেরেছেন। এখন চলুন জেনে নেওয়া যাক আপেল খাওয়ার উপকারিতা দিকগুলো।

যাদের এলার্জিজনিত সমস্যা আছে তাদের আপেল খাওয়ার কিছুটা সতর্ক হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ করে আপনাকে জেনে নিতে হবে । আপেলের কোনো উপাদানে আপনার অ্যালার্জি আছে কি না। যদিও এমনটা হওয়া বেশ দুর্লভ তবুও সতর্ক থাকা ভালো। এলার্জিজনিত সমস্যা থাকলে সাধারণত ত্বকের কোথাও ফুলে ‍ওঠা, চুলকানি, জিভ চুলকানো ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

গ্যাসের সমস্যা ও ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। আপনি যদি ফাইবার খাওয়ার অভ্যস্ত না হন। তবে হঠাৎ করে প্রতিদিন প্রতিদিন একধরনের আপেল খাওয়ার ফলে অস্বস্তিকর গ্যাস এবং ফোলাভাব হতে পারে। আপেল এবং অন্যান্য খাবারগুলি থেকে একটি ফাইবার যুক্ত করুন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি পর্যায়ক্রমে করুন। এবং আপনার হজম ক্ষত্রে ফাইবারটি যেতে সহায়তা করার জন্য প্রচুর পরিমাণে জল পান নিশ্চিত করুন।

আপেল খাওয়ার অপকারিতা

আপেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু সতর্ক অবলম্বন করুন। ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করে থাকে। এক্ষেত্রে এই সমস্ত আপেল খাওয়ার স্বাস্থ্যের জন্য কিছুটা ঝুঁকি আছে। তবে আপনি যাচাই-বাছাই করে দেখলেই সঠিক আপেল চিনতে পারবেন কোনটি কীটনাশক যুক্ত আপেল আর কিন্তু কীটনাশক ছাড়া ফেল। জৈবিক আপেল কিনুন এতে করে শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

শেষ কথা

আমরা চেষ্টা করেছি আপেলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। আশা করি আপনারা খুব সহজে এই পোস্ট থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ে আপেল নিয়ে জানতে পেরেছেন। আমাদের ওয়েবসাইটে এরকম আরো স্বাস্থ্য বিষয়ে বিভিন্ন আর্টিকেল রয়েছে। যেগুলো পরলে আপনারা উপকৃত হতে পারেন। তাই আমাদের সাইজ ভিজিট করে দেখতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button