টিপসস্বাস্থ্য

ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা – ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম জেনে নিন

ড্রাগন ফল আমাদের দেশে খুব একটা পরিচিত নয়, কিন্তু এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিদেশি ফল হলেও আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ করা হচ্ছে। ড্রাগন ফলের বৈজ্ঞানিক নাম হাইলোসেরিয়াস আনডেটাস।

সুস্বাদু এই ফল অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চমৎকার আকৃতির এই ফলটি গ্রীষ্মকালে পাওয়া যায়। এই ফলের রং লাল এবং এই ফলে বীজ রয়েছে। ফলটি খেতে মিষ্টি, মিষ্টি হওয়ার কারণে অনেকের কাছেই প্রিয়।

শুধু দেখতে সুন্দর নয় এর বেশ স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। যা আমাদের শরীরের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে অনেক কার্যকরী। তাই এই ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেই জানতে চায় যা এই পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর এই ফলটি আমাদের শরীরের জন্য কতটা উপকারী। তা আজকের এই পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে। আপনাদের বোঝানোর সুবিধার্থে ড্রাগন ফলের উপকারিতা সম্পর্কে কয়েকটি বিষয়ে বিভক্ত করে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করা যায় এখান থেকে আপনি খুব সহজে জানতে পারবেন।

ড্রাগন ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম

বর্তমানে ড্রাগন ফলের চাহিদা বৃদ্ধি হওয়ার কারণে অনেকেই এই ফলটি চিনে। দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে অন্যান্য ফলের তুলনায় এই ফলটির দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেকেই এই ফল সংগ্রহ করতে পারছে না। তবে ড্রাগন ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম অবশ্যই জেনে রাখা উচিত। তাহলে চলুন ড্রাগন ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম জেনে নেওয়া যাক।

যেহেতু ড্রাগন ফলের আকৃতি অন্যান্য ফলের মত না। তাই অনেকেরই জানা নেই কিভাবে ড্রাগন ফল খেতে হয়। ফলটির স্বাদ পাওয়ার জন্য অবশ্যই পেকে যাওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তবে অতিরিক্ত পেকে গেলে এর স্বাদ অতটাও ভালো লাগেনা।

প্রথমে লক্ষ্য করুন ড্রাগন ফলের গায়ে থাকা, ফলের গায়ে কালো দাগ বা ক্ষত বাদামী শুষ্ক দাগ বা শুকনো কাটা থাকলে। এই ধরনের ড্রাগন ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন‌। কারণ এগুলোর স্বাদ অতটা ভালো নয়। তাই ভালো সাদ পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে বাছাই করে কিনতে হবে।

ফলটি ভেতরের অংশ বের করার জন্য চামচের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। চামচ দিয়ে উপরের অংশ ফেলে ভেতরের মাংস বের করুন। ফলটি যদি পাকা হয় তাহলে খুব সহজেই এর খোসা বের করে ভেতরের মাংস বের করতে পারবেন। উপরের খোসা বের করে ভেতরের মাংস চামচ দিয়ে খেতে পারবেন। এছাড়াও এটি কেটে টুকরো করেও খেতে পারবেন। পাকা ড্রাগন ফলের স্বাদ অনেক ভালো। তবে ড্রাগন ফলের চামড়া বা উপরের রঙিন খোসা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

ড্রাগন ফলের বেশ পুষ্টিগুণ রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। সুস্বাদু এই ফল আমাদের অনেকের কাছে প্রিয়। ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ও উপকারিতা সম্পর্কের এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

এই ফলে রয়েছে ৮০ থেকে ৯০ গ্রাম জল। এছাড়া রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, নায়াসিন, ভিটামিন সি। পুষ্টিবিশারদরা জানিয়েছেন, এই ফলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩ থাকে।

আমাদের শরীরে ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করার ক্ষেত্রে অনেকটাই কার্যকারী। এছাড়াও এই ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে যা হাড়ের জন্য খুবই উপকারী। এর ফল হজম শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, হার্টের জন্য ভালো, ‌ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়, চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, চুল পড়া বন্ধ করে, রক্ত চলাচল বজায় রাখে, গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে উপকারি, এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।

তাই বলাই যায় ড্রাগন ফলের বেশ উপকারিতা রয়েছে। যা আমাদের শরীর-স্বাস্থ্য রক্ষার্থে অনেকটাই কার্যকরী। অন্যান্য খাবার তালিকার পাশাপাশি ড্রাগন ফল ও রাখা যায়।

ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতা কি

শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য সুস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। যারা জাঙ্ক ফুড খেতে পছন্দ করে তাদের ক্ষেত্রে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখা অনেকটাই কষ্টকর। যারা প্রতিনিয়ত সুস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারবে তারা শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারবে। এর মাঝে যারা ফল খেতে পারে তারা শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে অনেকটাই। ফল খেতে পছন্দ করে তাদের খাদ্য তালিকায় ড্রাগন ফল রাখা উচিত। কেননা ড্রাগল ফলে বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে যা আমাদের স্বাস্থ্য উপকারিতায় অনেক ভূমিকা রয়েছে। ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতা কি তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে- প্রত্যেকের জন্যই হজম শক্তি বৃদ্ধি করা জরুরী যা সাহায্য করে ড্রাগন ফল। এটি শরীরে ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে, যার ফলে হজম ক্ষমতাও ভাল হয়। তাছাড়া এটি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায়, পরিপাকতন্ত্রকে ভাল রাখতে সহায়তা করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়- যারা ড্রাগন ফল খেলো তারা ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারল। ড্রাগন ফলে ক্যান্সার বিরোধী উপাদান রয়েছে। এটি কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত সহায়ক। এর পাশাপাশি এই ফলে পৌঁছে ওর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমে যায় যেমন ডায়াবেটিস, অ্যালজাইমার পারকিনসন এবং ক্যান্সার। তাই বলা যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার জন্য ড্রাগন ফল খাওয়া উচিত।

চোখের যত্নে- শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি চোখে যত্ন করে তোলা উচিত। বয়সের সাথে সাথে চোখের নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়, এক্ষেত্রে ড্রাগন ফল অনেকটাই উপকারী। এতে বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে। তাই, এই ফল চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ছানি পড়ে যাওয়া এবং ম্যাকুলার ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিসের ঝুকি কমায়- ডায়াবেটিসে ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। এক্ষেত্রে ড্রাগন ফল অনেকটাই সাহায্য করে। ড্রাগন ফলে থাকা ফাইবার যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এই ফলের নিয়মিত সেবন, রক্তে শর্করার ভারসাম্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

হাড়ের জন্য ভালো- বয়সের সাথে সাথে হাড় ক্ষয় হয় এবং নানান ধরনের সমস্যা তৈরি হয় হয়। হাড় ভালো রাখার জন্য প্রয়োজন অনেক ক্যালসিয়াম। ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে এর সাথে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা হাড়কে শক্তিশালী করে তোলে। এবং হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। ফলে জয়েন্টের ব্যথা, ফ্র্যাকচার কিংবা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যায়।

ফ্রি ব্যাডিক্যালের হাত থেকে রক্ষা করে- এই ফলে ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনোলিক অ্যাসিড এবং বিটাসায়ানিন-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এগুলি কোষগুলোকে ফ্রি ব্যাডিক্যালের হাত থেকে রক্ষা করে।

চুল পড়া বন্ধ করে- নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে এই সমস্যা দূর করা যায়। ড্রাগন ফলে রয়েছে আয়রন যা চুল পড়া রোধ করে।

গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে উপকারি– এতে ভিটামিন বি, ফোলেট এবং আয়রন রয়েছে, তাই এটি গর্ভবতীদের জন্য আদর্শ ফল। ভিটামিন বি এবং ফোলেট নবজাতকের জন্মগত ত্রুটি রোধ করতে সহায়তা করে এবং গর্ভাবস্থায় শক্তি সরবরাহ করে। তাছাড়া এতে থাকা ক্যালসিয়াম ভ্রূণের হাড়ের বিকাশের জন্য অত্যন্ত উপকারি। এতে ম্যাগনেসিয়ামও রয়েছে, যা মহিলাদের পোস্টমেনোপজাল জটিলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। তাই বলা যাবে ড্রাগন ফল খাওয়া উচিত

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ- ড্রাগন হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল। এতে রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, ফেনোলিক অ্যাসিড এবং বিটাসায়ানিন এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে। এসব প্রাকৃতিক উপাদানগু আমাদের কোষগুলোকে ফ্রি ব়্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে। এটি ক্যান্সার এবং অকালে বুড়িয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা থেকে বাঁচায়। তাই বলা যায় ড্রাগন ফল খাওয়া উচিত।

এছাড়াও এই ফলে আয়রন রয়েছে। আয়রনের ঘাটতির জন্য রক্তস্বল্পতার অন্যান্য উপসর্গও প্রশমিত করতে পারে। ত্বকের বিবর্ণতা, মনোনিবেশে সমস্যা, মাথাব্যথা ও হাত-পায়ে ঠান্ডা অনুভূতি। এসব দূর করার ক্ষেত্রে অনেকটাই কার্যকারী

তাই বলা যায় স্বাস্থ্য উপকারী এই ফলটি আমাদের খাওয়া উচিত। অন্যান্য ফল খাওয়ার পাশাপাশি খাদ্য তালিকায় এই ফলটিও রাখা উচিত।

ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা

ড্রাগন ফল আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষাকে কতটা উপকারী তা আমরা উপর থেকে জানতে পেরেছি। এর পুষ্টিগুণ আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষার্থে অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকেই ড্রাগন ফলের অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চায়। কাদের ক্ষেত্রে ড্রাগন ফল খাওয়ার পূর্বে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত তা এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

এলার্জি হতে পারে- যাদের পূর্বে থেকেই এলার্জির জনিত সমস্যা রয়েছে। তাদের ড্রাগন ফল খেলে এলার্জি আরো বেড়ে যেতে পারে। এই ফলটি অতিরিক্ত খেলে এলার্জি সমস্যা হতে পারে। এলার্জির কারণে ঠোঁটে জিভে ও গলায় জ্বালা করার সমস্যা হতে পারে।

ডায়রিয়ার সমস্যা হতে পারে- এই ফলটি আমাদের পাচক ও পরিপাক অন্ত্রকে ভালো রাখে এবং পেটে ব্যথা, অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। তবে আবার অতিরিক্ত ফাইবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বিশেষ করে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য। যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ জল না খেয়ে আমরা এই ফল অতিরিক্ত গ্রহণ করি তাহলে ডায়রিয়া হতে পারে।

এছাড়াও অতিরিক্ত ড্রাগন ফল খাওয়ার মাধ্যমে নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে। তাই অতিরক্ত ড্রাগন ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ড্রাগন ফল স্বাস্থ্য রক্ষার্থে অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে অতিরিক্ত ড্রাগন ফল না খাওয়াই ভালো। উপরে উল্লিখিত অপকারিতা দিকগুলো খেয়াল রাখা উচিত। প্রতিদিন স্বাভাবিক মত ড্রাগন ফল খাওয়া যেতে পারে।

ড্রাগন ফলের ছবি

ড্রাগন ফলের ছবি অনেকেই সংগ্রহ করতে চায়। আমরা এই পোস্টে ড্রাগন ফলের ছবি তুলে ধরেছি। আশা করা যায় এখান থেকেই খুব সহজে আপনি সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।

ড্রাগন ফলের ছবি

শেষ কথা

আশা করি আজকের এই পোস্ট থেকে আপনি খুব সহজে জানতে পেরেছেন ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা দিকগুলো। যদি এই পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে। তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে দেখতে পারেন। আমাদের ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য বিষয়ে আর্টিকেল রয়েছে যা আপনাদের উপকারে আসতে পারে।

আরও দেখুনঃ

তরমুজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

জাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা – কেন তেঁতুল খাবেন তা জেনে নিন

স্ট্রবেরি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা – স্ট্রবেরি ফলে যত গুনাগুন জেনে নিন

নারিকেলের উপকারিতা ও অপকারিতা – নারিকেল শাঁসের যত উপকারিতা

তাল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা – তালের শাঁস কেন খাবেন তা জেনে নিন

পেঁপের উপকারিতা ও অপকারিতা – যে কারণে পেঁপে খাওয়া উচিত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button