টিপসস্বাস্থ্য

শসার উপকারিতা ও অপকারিতা – জেনে না রাখলে ক্ষতি হতে পারে

সবজির মধ্যে উন্নতম একটি শসা। বহু পরিচিত এই সবজিটি সকলেরই চেনা। এটি বেশিরভাগ সালাত হিসেবে খাওয়া হয় এছাড়াও রান্না করে এবং কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায়। সবজিটি মৌসুম অনুযায়ী হলেও এখন সারা বছরই পাওয়া যায়। বলা হয় সারা বিশ্বে আবাদ করা সবজির মধ্যে চার নম্বর অবস্থান শসার। শসার বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

এছাড়াও ত্বকের জন্য শসার উপকারিতা রয়েছে। শসা ওজন কমাতে সাহায্য করে, হৃদপিণ্ড ভালো রাখে, ব্যথা দূর করতে অনেক কার্যকারী। তাই বলা যায় রান্না করে হোক কিংবা সালাত, শসা খাবার তালিকায় রাখা উচিত।

প্রতিদিন শসা খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের, ভিটামিনের অভাব পূরণ করার পাশাপাশি শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখা যায়। যারা শসার উপকারিতা দিকগুলো জানতে চান। তারা আজকের এই পোস্টে থেকে জানতে পারবেন। আপনাদের বোঝানোর সুবিধার্থে কয়েকটি বিষয়ে বিভক্ত করে আজকের এই পোস্টে শসার উপকারিতা কি কি তুলে ধরা হয়েছে। আশা করা যায় এই পোস্ট থেকেই আপনি খুব সহজে জানতে পারবেন।

শসার উপকারিতা কি

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রত্যেক মানুষের জরুরী। শরীর সুস্থ ও সবল রাখার জন্য সুস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন রান্না করে নানান ধরনের সবজি খাওয়া হয় এর পাশাপাশি ফল খাওয়া হয়। আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় শসা রাখতে পারেন তা রান্না করে হোক বা সালাত হিসাবে।

শসার ঔষধি গুনাগুন গুলো আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। শসার বেশ কিছু উপকার দিকগুলো রয়েছে। এই সবজির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন কে এবং প্রদাহ প্রতিরোধী উদ্ভিদ যৌগ, যা চোখের জন্য অনেক উপকারী। এর পাশাপাশি রক্তচাপ কমায়, হার্টের সুরক্ষা বাড়ায়, পানি শূন্যতা দূর করে, শরীরের ভিটামিনের অভাব দূর করে, বিষাক্ততা দূর করে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

ওজন কমাতে সাহায্য করে, চোখের জ্যোতি বাড়ায়, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখে, মাথাধরা থেকে নিষ্কৃতি, কিডনি সুস্থ রাখে, ব্যথার উপশম করে, দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখে। এছাড়াও বিভিন্ন গুনাগুন রয়েছে শসার। শসার এই গুণাগুণ পাওয়ার জন্য, বা শরীরের ভিটামিনের অভাব পূরণ করার জন্য নিয়মিত শসা খাওয়া যেতে পারে।

শসার স্বাস্থ্য উপকারিতা

বলা হয়ে থাকে যারা নিয়মিত ফল খেতে পারবে তাদের শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। অনেকে নিয়ম করে ফল খেতে পারে আবার অনেকেই খেতে পারে না। ফলের চাহিদা পূরণ করার ক্ষেত্রে অনেকটাই কার্যকারী শসা। শসা কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায় এটি রান্না করে খাওয়া যায়। এর বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।

প্রচুর পরিমাণ পানি থাকায়, পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। শসা অনেক উপকারী একটি সবজি। অনেক ফলের থেকেও এটির অনেক গুনাগুন রয়েছে। তাহলে চলুন শসার কিছু উপকারিতা দিকগুলো যেগুলো জেনে রাখা খুবই জরুরী।

হাড় মজবুত করে– হাড়ের গঠন মজবুত ও শক্ত রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম প্রয়োজন যা শসায় রয়েছে। শসাতে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি ভিটামিন কে রয়েছে। ভিটামিন কে হাড়ের ক্ষয় ঝুঁকি কমাতে এবং ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্যকরে।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে– যাদের হজম শক্তি দুর্বল তাদের শসা অনেক উপকারী একটি সবজি। দৈনন্দিন খাবার খেতে হয়, আর এজন্য প্রয়োজন খাবার হজম হওয়া যা সাহায্য করে শসা। শসার ভিটামিন, খাদ্য আঁশ এবং পানি খাবার হজমে সাহায্য করে। প্রতিদিন শসা খাওয়া হলে পাচনতন্ত্র সুস্থ থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যেরসমস্যা দূর হয়।

দাঁত ও মাড়ির জন্য ভালো– নিয়মিত শসা খেতে পারলে দাঁত ও মাড়ির রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। শসা আমাদের মুখের অ্যাসিডের ভারসাম্য ও পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে কাঁটাছেঁড়া এবং ক্ষত প্রতিরোধ ও নিরাময় করা সহজ হয়। এর পাশাপাশি দাঁতের প্লাক এবং টক্সিন তৈরি করে পরিষ্কার করে।

দেহের পানি শূন্যতার অভাব পূরণ করে– গরমের পানি পিপাসা দূর করার ক্ষেত্রে শসার ভূমিকা রয়েছে। শসাতে প্রায় পঁচানব্বই শতাংশ পানি রয়েছে এর ফলে শরীর আর্দ্ররাখতে ও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এবং শরীরের পানির স্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপ কমায়– মানুষের শারীরিক ও মানসিক দুইদিক দিয়েই সুস্থ থাকা উচিত। শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক দিক দিয়েও সুস্থ থাকতে হবে। মানসিক চাপ দূর করার ক্ষেত্রে শসা অনেক কার্যকরী। শসাতে রয়েছে ভিটামিন বি ওয়ান, ভিটামিন বি ফাইভ এবংভিটামিন বি সেভেন শসাতে পাওয়া যায়। যা উদ্বেগ ও চাপ কমাতে সাহায্য করে।

হৃদযন্ত্রের সুস্থতা– হৃদয়ের সুস্থতায় শসার ভূমিকা রয়েছে। শসাতে তিনটি উপাদান রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবংভিটামিন কে। এই উপাদান থাকার ফলে হৃদযন্ত্রের সুস্থতা রক্ষা করতে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়ামও পটাসিয়াম গ্রহণের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত শসা খাওয়া কোলেস্টেরলেরমাত্রা কমায় এবং শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধা এবং রক্তে ক্যালসিয়ামপ্রবাহের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

কিডনির সুরক্ষায়– যারা নিয়মিত শসা খেতে পারল তারা কিডনির সুরক্ষা বৃদ্ধি করতে পারল। কিডনির সুরক্ষার জন্য শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখতে হবে। শসা শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখে । ফলে কিডনি থাকে সুস্থ ও সতেজ।

ওজন কমায়– ক্যালরিযুক্ত খাবারগুলো শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এ কারণে অনেকেই অনেক ধরনের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকে। এক্ষেত্রে শসা অনেকটাই কার্যকারী শসাতে ক্যালরির মাত্রা কম এবং পুষ্টিগুণ বেশি। ক্যালরি মাত্রা কম হওয়ার ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়– শরীর সুস্থ রাখার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে তোলা জরুরি। শসায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দীর্ঘস্থায়ী কোন রোগের সম্ভবনা কমায়।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে– স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার জন্য অনেকেই নানান ধরনের মেডিসিন খেয়ে থাকে। যারা নিয়মিত শসার রস খেতে পারবে তাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হবে। ফলে বিভিন্ন মেডিসিন খাওয়া থেকে বিরত থাকা যাবে। শশার রস নিয়মিত খাওয়ার ফলে মস্তিস্কে ও ধমনীতে জমে থাকা প্রচুর এলডিএল হ্রাস করে। ফলে স্মৃতিশক্তিও বৃদ্ধি পায়।

ব্যথা থেকে মুক্ত করে– শসা অনেক উপকারী ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি। ব্যথার জন্য অনেক কার্যকরী তবে এর সাথে গাজরের প্রয়োজন হবে। গাজরের রস ও শসার রস মিশিয়ে খেতে হবে। শসায় প্রচুর পরিমাণে সিলিকা আছে। গাজরের রসের সঙ্গে শসার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নেমে আসে। এতে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বিষাক্ততা দূর করে– শসার মধ্যে যে পানি থাকে তা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে অনেকটা কার্যকারী। নিয়মিত শসা খাওয়ায় কিডনিতে পাথরও গলে যায়। তাই বলা যায় শসা খাওয়া উচিত।

মাথাধরা থেকে নিষ্কৃতি– বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে। তবে এই মাথা ব্যাথা থেকে মুক্তি করতে অনেকটাই কার্যকারী শসা। শসা খেতে পারলে এ সমস্যা দূর করা যায়। শসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও সুগার আছে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক স্লাইস শসা খেয়ে নিলে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর এ সমস্যা থাকবে না।

শসার এই বিষের গুনাগুন পাওয়ার জন্য আমাদের খাদ্য তালিকায় এটি রাখা উচিত। নিয়মিত শসা খেতে পারলে শরীর সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে। শুধু শসার পুষ্টিগুণ রয়েছে তা নয় শসার খোসায় অনেক উপকারিতা রয়েছে। যা আমাদের জেনে রাখা প্রয়োজন। শসার খোসার উপকারিতা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

শসার খোসার উপকারিতা

আপেল খোসা সহ খাওয়া যায় তেমনি শসাও খোসা সহ খাওয়া যায়। তবে অনেকেই আপেলের খোসা ফেলে দিয়ে খায় তেমনি শসার ক্ষেত্রেও খোসা ফেলে দিয়ে খায়। শসা স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উপাদান। যা আমরা উপর থেকে জানতে পেরেছি। অনেকেই ভাবে শসার খসার উপকারিতা নেই এটি তাদের ভুল ধারণা। শসার যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি শসার-খসার উপকারিতা রয়েছে।

চোখের সমস্যা দূর করে– আমরা অনেকেই জানি চোখে সুস্থতায় ভিটামিন এ এর প্রয়োজন, যা শসার খোসায় রয়েছে। চোখের স্বাস্থ্য ও দৃষ্টিশক্তির জন্য ভিটামিন-এ ভীষণ জরুরি। তবে শসার খোসা ফেলে দিলে ভিটামিন-এ আর অবশিষ্ট থাকে না।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে– শসার খোসায় ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বকের যত্নে অনেক কার্যকারী। ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ ড্যামেজ থেকে ত্বককে রক্ষা করতে এবং ত্বকে বয়সের ছাপ পড়া প্রতিরোধে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও কোলাজেন উৎপাদনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। শসাতে নয়, শসার খোসায় প্রচুর পরিমাণে উপকারী এ উপাদান বিদ্যমান থাকে। তাই শসা খোসাসহ খেলে ত্বকের বয়সের ছাপকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।

মেদ কমায়– শসার খোসায় ক্যালরির মাত্রায় কম থাকায় মেদ কমাতে সাহায্য করে। ক্যালরি কম হলেও ক্ষুধার প্রকোপ কমাতে শসা বেশ কার্যকর। তাই ক্ষুধা পেলেই নিশ্চিন্তে খেয়ে নিতে হবে ছোট একটি খোসাসহ শসা।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের সমস্যা কমায়– কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা ও পেটের সমস্যা দূর করে শসা। এর উপকারিতা পাওয়ার জন্য খোসা সহ খেতে হবে। তবে খাওয়ার পূর্বে শসা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। শসার খোসাতে রয়েছে অদ্রবণীয় আঁশ। অন্যদিকে শসার ভেতরের নরম অংশে থাকে দ্রবণীয় আঁশ। উভয় প্রকৃতির আঁশ মলকে নরম করতে ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে চমৎকার কার্যকরি।

ত্বকে শসার উপকারিতা

শসার মাধ্যমে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করা যায়। শসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। তা ত্বক উজ্জ্বল করতে এবং বলিরেখা দূর করে। শসা স্বাস্থ্য উপকারিতা পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও এর উপকারিতা অনেক কার্যকরী। এর সাথে রোদে পোড়া দাগ দূর করা যায়, শুষ্ক ত্বক সতেজ করতে সাহায্য করে। এর ভিটামিন বি-নায়াসিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিনসি এবং জিংক ত্বকের উজ্জ্বলতা রক্ষা করে।

ত্বক উজ্জ্বল করে– ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য শসা সাথে লেবুর প্রয়োজন হবে। একটি পরিষ্কার পাত্রে শসার রসের সাথে লেবুর রস মিলিয়ে তা মুখে ভালো করে মাখুন। একটানা বিশ মিনিট রাখার পর মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। আর এভাবে প্রতিদিন ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার ত্বক উজ্জ্বল করতে পারবেন।

বলিরেখা দূর করে– বলিরেখা সম্পূর্ণরূপে দূর করতে সাহায্য করে শসা। এতে রয়েছে ভিটামিন কে এবং ভিটামিন সি যা আমাদের ত্বককে টানটান রাখতে সাহায্য করে। ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ এবং বুড়িয়ে যাওয়া ভাব ও বিভিন্ন ধরনের দাগ বলিরেখা দূর করে। এর সাথে ত্বকের এবং বিবর্ণ ভাব সম্পূর্ণ দূর করে ত্বক কে উজ্জ্বল ও মসৃন করতে সাহায্য করে।

রোদে পোড়া দাগ দূর করে– বিভিন্ন ক্ষেত্রে রোদের আলোয় থাকতে হয়, সূর্যের রশ্মির কারণে আমাদের ত্বক পুড়ে যায়। ত্বকের পুড়ে যাওয়া ভাব দূর করার ক্ষেত্রে শসার ভূমিকা রয়েছে। শসা কেটে স্লাইস করে মুখে লাগাতে পারেন। অথবা শসা বেটে এর রস মুখে লাগিয়ে পনেরো মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। কিংবা শসার রস দিয়ে আইস কিউব বানিয়ে ফ্রিজে রাখুন। প্রতিদিন এই আইস কিউব মুখে ঘষুন। এতে আপনার ত্বকের রোদে পোড়া দাগ অনেকটা দূর হবে।

ত্বকের তৈলাক্ত দূর করে– ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখে এবং তৈলাক্ততা দূর করে। তৈলাক্তর কারণে ব্রণ দেখা যায় তবে এ সমস্যাটা থেকে দূরে থাকার জন্য শসার ব্যবহার করা যায়। বেসন ও শশার প্রয়োজন হবে। একটি পরিষ্কারপাত্রে শসা রস বের করে তিন টেবিল চা চামচ ও দুই টেবিল চা চামচ বেসন এক টেবিল চামচ বাটার মিল্ক মেশান। এর সাথে এক টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ত্রিশ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দূর হবে ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ততা।

তাই ত্বকের যত্নে শসার ব্যবহার করা যায় ত্বকের যত্ন করার জন্য শসার ভূমিকা রয়েছে।

শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

শসা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা উপর থেকে জেনেছি‌। শসা একটি স্বাস্থ্যকর সবজি যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন অসুখ থেকে মুক্ত রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এছাড়াও ত্বকের উজ্জ্বলতায় ঐর ভূমিকা রয়েছে।

আমরা আমাদের খাদ্য তালিকায় শসা সালাদ হিসেবেও রাখতে পারি অথবা রান্না করেও খেতে পারি। শসার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে তো আমরা অনেকেই জানতে পেরেছি। তবে কাদের ক্ষেত্রে শসা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত বা এর অপকারিতা সম্পর্কে যারা জানতে চায়। তারা এখান থেকে জেনে নিতে পারবে। তাহলে চলুন শসা খাওয়ার কিছু অপকারিতা দিকগুলো জেনে নেওয়া যাক।

ওজন কমায়– যারা শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে চায়, তারা শসা থেকে বিরত থাকতে পারে। কেননা শশায় ক্যালরির পরিমাণ খুব কম। এর ফলে শরীরের ওজন বাড়তে দেয় না। তাই যারা শশা খেতে পছন্দ করে তাদের ক্ষেত্রে বলা যায় অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যদি শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে চায়।

শসায় পানির পরিমাণ বেশি থাকে ফলে শরীরের পানি শূন্যতা দূর করা যায়। কিন্তু অতিরিক্ত শসা খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে যেমন পেট ব্যথা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, বদহজম।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি – ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে শসা না খাওয়াই ভালো। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া যেতে পারে। কচুরবিতিন নামক এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া যায় শসাতে। শসা খাওয়ার মাধ্যমে এ পদার্থটির শরীরে প্রবেশ করে এ কারণে লিভার, অগ্ন্যাশয়, পিত্তথলি সহ অন্যান্য অংকগুলিতে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। তাই যাদের পূর্বে থেকে ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শসা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

এছাড়াও যাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে শসা খেলে তা বৃদ্ধি হতে পারে। বেশি পরিমাণে শসা খেলে অনেকের পায়ে পানি জমে যায়। ফলে পা ফুলে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। সুস্থ থাকতে শসা সালাদ হিসেবে অন্যান্য সবজির সঙ্গে খেতে পারেন।

ওপরের উল্লেখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত। শসা খাওয়া ভালো তবে এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। যাদের এ ধরনের সমস্যা রয়েছে তাদের অতিরিক্ত শসা খাওয়া যাবে না। শসা স্বাস্থ্যকর একটি ফল তাই স্বাস্থ্য রক্ষার্থে পরিমাণ মতো শসা খাওয়া উচিত।

শেষ কথা

আশা করা যায় আজকের এই পোস্ট থেকে আপনি খুব সহজে জানতে পেরেছেন। শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং শসা গুণাগুণ সম্পর্কে। যদি এই পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে স্বাস্থ্য বিষয়ে অন্যান্য পোস্টগুলো পড়তে পারেন। এতে করে আপনাদের উপকারে আসবে।

আরও দেখুনঃ

তরমুজ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

জাম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

কমলা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা – কমলা খাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন

জলপাইয়ের উপকারিতা ও অপকারিতা – এখান থেকে জেনে নিন খুব সহজেই

ঠোঁটের কালো দাগ দূর করার উপায় – ঠোটের কালো দাগ দূর করার সহজ উপায় জেনে নিন

ওজন বাড়ানোর উপায় – ওজন বাড়াতে করণীও কি জেনে নিন

 

বরই এর উপকারিতা ও অপকারিতা – বরই ফলের যত গুনাগুন এখান থেকে জেনে নিন

কাঁঠাল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button