দৌড়ানোর উপকারিতা

দৌড়ানোর উপকারিতা – জানুন কতক্ষণ দৌড়ানো উচিত?

আজকে আমরা কথা বলবো দৌড়ানোর নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে। তাই বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ দৌড়াতে ভালোবাসে। তাই অনেকে ইন্টারনেটে দৌড়ানোর উপকারিতা ও দৌড়ানোর সঠিক সময় জানতে চেয়ে অনুসন্ধান করে।

আজকের এই পোস্টে আমরা শিশুদের দৌড়ানোর খাওয়ার উপকারিতা উল্লেখ করেছি। তাই আজকের এই পোস্ট থেকে দৌড়ানোর উপকারিতা জেনে নিন।

দৌড়ানোর উপকারিতা

এখানে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে দৌড়ানোর উপকারিতা।

  1.  ২০০৬ সালে করা একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ৩০ মিনিট দৌড়ালেই আপনার বিষণ্ণতা যত বেশিই হোক না কেনো কমবে। আপনাকে খুব জোড়ে দৌড়াতে হবে না। হাঁটার চেয়ে একটু জোড়ে দৌড়ালেই হবে। ২০১৩ সালে করা আরেকটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিষণ্ণতা ভালো করার জন্য দৌড়ানো, ঔষধের মতো কাজ করে।
  2. আপনি হয়তো শুনেছেন যে দৌড়ালে হাটুর ক্ষতি হয়। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা। দৌড়ালে উলটো হাটু শক্তিশালী হয় এবং বয়স বাড়লে হাটু দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
  3. ওজন কমাতে চেলে আপনি প্রতিদিন যত ক্যালরি খাবেন, আপনাকে তার চেয়ে বেশি ক্যালরি পুড়াতে হবে। ব্যায়ামের সাহায্যে বেশি ক্যালরি পুড়ানো সম্ভব। দৌড়ানোর একটা উপকারিতা হচ্ছে, এটাতে অনেকগুলো পেশিকে একসাথে কাজ করতে হয়। এর ফলে সারা শরীরের ব্যায়াম হয়।
  4. বয়স্ক মানুষরা দৌড়ানোর কারণে বিশেষ উপকারিতা পায়। বয়স বাড়লে মানুষের মস্তিষ্ক আগের মতো ভালো কাজ করে না। নিয়মিত ব্যায়াম করলে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। ২০১২ সালে প্রকাশিত একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা, একসাথে একের অধিক কাজ করার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি, ইত্যাদি আগের মতো ভালো থাকে।
  5. দৌড়ানো ক্যান্সারকে ভালো করবে না। তবে এটা ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে পারে। ১৭০ টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করে তাদের কিছু কিছু ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম। এছাড়া আপনার যদি ক্যান্সার হয়, তাহলে কেমোথেরাপি দেওয়ার সময় ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে দৌড়ালে জীবনের মান একটু উন্নত হবে।
  6. দৌড়ানোর উপকারিতা আরেকটা হচ্ছে, আপনার ভালো ঘুম হবে। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রতি সপ্তাহে ১৫০ মিনিট দৌড়ালে ঘুমের মান ৬৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
  7. নিয়মিত দৌড়ালে আপনার হৃত্পিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। উপকারিতা পেতে আপনাকে খুব বেশি দৌড়াতে হবে না। ১৫ বছর ধরে ৫০,০০০ মানুষের উপরে করা একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ মিনিট দৌড়ালে হার্টের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৪৫% পর্যন্ত কমতে পারে।

দৌড়ালে কি ওজন কমে?

দৌড় হল এমন এক ধরণের ব্যায়াম যার মাধ্যমে প্রতি মিনিটে অনেক পরিমাণে ক্যালোরি ঝরে যায়, ফলে বাড়তি মেদ কমিয়ে ফেলার জন্য বেশীদিন অপেক্ষা করতে হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেঁটে সমপরিমাণ শক্তি ব্যয় করেও ওজন নিয়ন্ত্রণ ততটা হয় না, যতটা হয় দৌড়ালে। দ্রুত দৌড়ালে আমাদের পেশী ক্লান্ত হয়ে যায় এবং সেটা পুনরুজ্জীবিত হতে শক্তি লাগে। আর এই কারণে শরীরের এক্সট্রা ক্যালোরি খরচ হয়ে যায়। যেকোনো এক্সারসাইজের থেকে দৌড়ানোর মাধ্যমে শরীরের মেটাবলিজম দ্রুত উন্নত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দৌড়ানোর পর রক্তে পেপটাইড ওয়াইওয়াই (peptide YY) নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এটা ক্ষুধা কমাতে ভুমিকা রাখে। খাওয়ার রুচি কমে গেলে ওজন কমাতে বেশ সুবিধা হয়। তাই এক মাসে অন্তত ৫ কেজি ওয়েট কমাতে হলে ঝটপট বেশি ক্যালোরি ঝরিয়ে ফেলতে হবে আর সঠিকভাবে দৌড়ানোই হতে পারে সবচেয়ে ভালো সমাধান। ওজন কমাতে দৌড়ানো খুবই কার্যকরী একটা উপায়।

কতক্ষণ দৌড়ানো উচিত?

দৌড়ানোর প্রকৃত উপকার পেতে চাইলে আগে সময় ঠিক করতে বসলে চলবে না। প্রথমে স্থির করতে হবে নিজস্ব লক্ষ্য এবং সে অনুযায়ী দৌড়ানোর সময় নির্ধারণ করতে হবে।

গড়পড়তা হিসেবে মাত্র আধা ঘণ্টা দৌড়ালেই উল্লেখযোগ্য স্বাস্থগত উপকার মিলবে। যেমন- রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি, যা ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের ক্ষয়পূরণ করবে, দূর করবে মানসিক চাপ এবং শরীরকে করবে আরও কর্মক্ষম।

দৌড়ানোর টিপস

– আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দিনে দুতিনবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট দৌড়ালে, প্রতিবারেই মিলবে একটানা আধা ঘণ্টা দৌড়ানোর সমান উপকার।

– দৌড়ানোর সময় কত ক্যালরি ঝরবে তা প্রধানত দৌড়ের গতির উপর নির্ভরশীল।

– ঢালের বিপরীতে দৌড়ালে মাংসপেশিতে চাপ পড়ে বেশি। ফলে ক্যালরিও পোড়ে বেশি।

– ঢালের অনুকুলে দৌড়ালে স্বাভাবিকভাবেই আপনার গতি বাড়বে। খেলোয়াড়দের জন্য এটি উপকারী।

– দৌড়ানোর সময় হাতে ডাম্বেল বহন করলে শরীরের উপরের অংশের ব্যায়ামও হয়ে যাবে। ফলে ক্যালরিও পুড়বে বেশি।

– শরীর গরম করার আগেই নিজের সর্বোচ্চ গতিতে দৌড়ানো শুরু করা উচিত নয়। হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং মাংসপেশিতে দৌড়ের গতির সঙ্গে তাল মেলানোর সুযোগ দিতে হবে। তাই ধীরে শুরু করতে এবং গতিও বাড়াতে হবে ধীরে।

– দৌড় থামানোর কয়েক মিনিট আগে থেকে গতি কমাতে হবে যাতে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

– দৌড় থামানোর পর মাংসপেশি টান টান করে ২০ সেকেন্ড ধরে রাখতে হবে।

সর্বশেষ কথা

আশা করি আজকের পোস্ট এর সাহায্যে সবাই দৌড়ানোর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনাদের যদি দৌড়ানোর উপকারিতা ও অপকারিতা পোস্ট ভালো লেগে থাকে। তাহলে অবশ্যই সবার সাথে শেয়ার করবেন। যাতে সবাই দৌড়ানোর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারে। সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

আরও দেখুনঃ 

ওজন কমানোর উপায় – জানুন বিস্তারিত

মধু খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা

খুশকি দূর করার উপায় – দেখুন বিস্তারিত

দুধের উপকারিতা ও অপকারিতা – দেখুন বিস্তারিত

লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা

আদার উপকারিতা ও অপকারিতা – দেখুন আদা খাওয়ার নিয়ম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *