টিপসস্বাস্থ্য

আজওয়া খেজুরের উপকারিতা – দেখুন বিস্তারিত তথ্য

আপনারা যারা আজওয়া খেজুরের উপকারিতা জানতে চান। তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট এ আজওয়া খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সকল তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তাই আজকের এই পোস্ট থেকে দেখে নিন আজওয়া খেজুরের উপকারিতা।

আজওয়া খেজুরের উপকারিতা

বেশিরভাগ মানুষ আজওয়া খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাই। তারা যাতে সঠিকভাবে সকল তথ্য জানতে পারে। তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট এ আজওয়া খেজুরের উপকারিতা উল্লেখ করা হয়েছে। এবং উল্লেখ করা হয়েছে আজওয়া খেজুরের দাম।

১। দ্রুত শক্তি প্রদানকারী খেজুরে আছে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ যা আপনাকে শক্তি দিয়ে থাকে। এটি খুব দ্রুত কাজের শক্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসে শরীরে। আপনি যদি খুব ক্লান্ত থাকেন তখন কিছু খেজুর খাবেন, দেখবেন শরীরের ক্লান্তি এক নিমিষে দূর হয়ে গেছে।
২। রক্ত স্বল্পতা দূর করে যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। তারা নিয়মিত খেজুর খেতে পারেন। খেজুর রক্ত উৎপাদন করে দেহের রক্তের চাহিদা পূরণ করে থাকে।
৩। কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে খেজুরে কোনো কোলেস্টেরল এবং বাড়তি পরিমাণে চর্বি থাকে না। ফলে আপনি সহজেই খেজুর খাওয়া শুরু করে অন্যান্য ক্ষতিকর ও চর্বি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকতে পারবেন।
৪। ওজন কমিয়ে থাকে মাত্র কয়েকটা খেজুর কমিয়ে দেয় ক্ষুধার জ্বালা। এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। আর এই কয়েকটি খেজুর শরীরের শর্করার চাহিদাও পূরণ করে থাকে। ফলে আপনি শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ না করলেও শরীরে শর্করার অভাব হয় না।
৫। হজমে সাহায্য করে কখনো বেহিসেবি খাওয়াদাওয়া করে ফেললে, অনেক সময় বদহজম হয়ে যায়। এই সমস্যা থেকে সহজে মুক্তি দেবে কয়েকটি খেজুর।
৬। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ যা খাদ্য পরিপাক হতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। ডায়রিয়া হলে কয়েকটি খেজুর খান। এটি ডায়রিয়া রোধ করতে সাহায্য করবে।
৭। ক্যান্সার প্রতিরোধ অবাক হলেও সত্য খেজুর ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এক গবেষনায় দেখা যায় খেজুর পেটের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। আর যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের বেলায় ক্যান্সারের ঝুঁকিটা কমে যায় অনেকখানি।

আজওয়া খেজুরের পুষ্টিগুণ

চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য মতে আজওয়ায় খেজুরে আছে ‘আমিষ, শর্করা, প্রয়োজনীয় খাদ্য আঁশ ও স্বাস্থ্যসম্মত ফ্যাট। এছাড়া ভিটামিন এ, বি সিক্স, সি এবং কে দ্বারা ভরপুর। ভিটামিন ‘এ’-এর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ‘ক্যারোটিন’ও রয়েছে এতে। ক্যারোটিন চোখের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত উপকারী। আরও রয়েছে স্বাস্থ্যকর উপাদান ফলেট, নিয়াসিন, থিয়ামিন ও রিবোফ্লেভিন।

আজওয়া খেজুর খাওয়ার নিয়ম

আজওয়া খেজুরের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। তাই যারা আজওয়া খেজুর খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান। তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট এ খেজুরের উপকারিতা ইসলাম উল্লেখ করা হয়েছে। আজওয়া খেজুরের উপকারিতা হাদিস জেনে নিন।

আজওয়া খেজুর খাওয়ার নিয়ম

আজওয়া খেজুর সকালে খাওয়া উত্তম কেননা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেন- যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে সেদিন বিষ ও যাদু তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। -বুখারী

আজওয়া খেজুর সম্পর্কিত হাদিস

আজওয়া খেজুর সম্পর্কিত হাদিস সবাই জানতে চায়। আমরা চেষ্টা করেছি আজকের পোস্ট এর সাহায্যে সবাইকে আজওয়া খেজুর খাওয়ার সম্পর্কিত হাদিস উল্লেখ করার জন্য।

আজওয়া খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেন- যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে সেদিন বিষ ও যাদু তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। -বুখারী

হযরত আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, নিশ্চয়ই আলিয়ার (মদীনার গ্রাম) আজওয়া খেজুর রোগ নিরাময়কারী এবং প্রাতঃকালীন প্রতিষেধক। -মুসলিম।

আজওয়া খেজুর সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেন, আজওয়া জান্নাতের ফল, এর মধ্যে বিষের নিরাময় রয়েছে। -তিরমিজি

হযরত সায়ীদ (রাঃ) বলেন, একদা আমি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে দেখতে এলেন এবং আমার বুকের উপর তাঁর হাত রাখলেন। তাঁর পবিত্র হাতের শীতলতা আমার হৃদয় পর্যন্ত পৌছে গিয়েছিলো। তিনি আমাকে বললেন তুমি হৃদয়ে কষ্ট অনুভব করছো। তুমি হারেস ইবনে কালদাহ এর কাছে যাও, সে একজন চিকিৎক, সে যেনো মদীনার সাতটি আজওয়া খেজুর নিয়ে বীজসহ চূর্ণ করে তোমার মুখে ঢেলে দেয়। -আবুদাউদ

মাহে রমজানে খেজুর দিয়ে ইফতার করার জন্য রাসুলুল্লাহ (সাঃ) পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি খেজুর পাবে সে যেন তা দিয়ে ইফতার করে। আর যদি না পায়, তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করবে কেননা তা অধিক পরিষ্কারক ও পবিত্র। -আবু দাউদ ও তিরমিজি

আজওয়া খেজুরের দাম

খেজুরের মধ্যে সবচেয়ে দামী ও সর্বোত্তম খেজুর হলো আজওয়া খেজুর। মদীনায় এ খেজুরের ফলন হয় বেশি। আজওয়া খেজুর কালো ও মাঝারি আকৃতির হয়ে থাকে। ভালোমানের ১ কেজি আজওয়া খেজুরের দাম ২০০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে

সর্বশেষ কথা

আশা করি আজকের পোস্ট এর সাহায্যে আজওয়া খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনাদের যদি আজকের এই পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় তাহলে অবশ্যই সবার সাথে শেয়ার করবেন।আরো নতুন তথ্য পেতে আজওয়া খেজুরের উপকারিতা জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন।

আরও দেখুনঃ

কলার উপকারিতা ও অপকারিতা – দেখুন বিস্তারিত

মেথির উপকারিতা ও অপকারিতা

নাজনীন নিশাত

হাই আমি নাজনীন নিশাত। আমি একজন বাংলা আর্টিকেল রাইটার। আমার ব্লগিং করতে ভালো লাগে। তাই আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখালেখি করি। তার মধ্যে বিনোদন, শিক্ষা, ইন্টারনেট অফার, প্রযুক্তি‌ এসব বিষয় নিয়ে লিখতে ভালো লাগে। এবং আমি সবসময় চেষ্টা করি ভালো কিছু লেখার জন্য। যাতে সবাই তা থেকে উপকৃত হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button