টিপসস্বাস্থ্য

আতা ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা – দেখুন খাওয়ার নিয়ম

আতা ফল বহু পরিচিত একটি ফল। এই ফল কম বেশি সকলেই খেয়ে থাকে। এই ফল অন্যান্য ফলে তুলনায় চাহিদা কিছুটা কম। তবে এর বেশ উপকারিতা রয়েছে যা আমাদের শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। গ্রীষ্মকালীন এই ফল এই ফলের চাহিদা রয়েছে ভালোই। তবে এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেরই অজানা যা আজকের এই পোস্টে তুলে ধরা হয়েছে।

আমরা এই পোস্টে কয়েকটি বিষয়ে বিরক্ত করে আতা ফলের গুনাগুন সম্পর্কে তুলে ধরছি। আশা করা যায় আজকের এই পোস্ট থেকে আপনি খুব সহজেই আতা ফলের উপকারিতা সম্পর্কে ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক আতা ফল খাওয়ার উপকারিতা দিকগুলো।

আতা ফলে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম আয়রন খনিজ গুলো সাথে ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি সিক্স পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আতা ফল মিষ্টি এবং গন্ধের মিশ্রণ প্রায় সাইট্রাস ফলের মতন। আতা ফল দুরারোগ্য ব্যাধিকে তাড়িয়ে আপনাকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে। কারণ আতা হলে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়াও আতাফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে ও এনিমিয়া প্রতিরোধ করে থাকে।

আতা ফলের উপকারিতা

আতা ফলের বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য ভালো। আতা ফলের গুনাগুন সম্পর্কে আমাদের জেনে রাখা উচিত। এই ফল ভাঙার পর ছোট ছোট কোষ বের হয়। কোষ থেকে বিচি বের করে রসালো অংশটুকু টুকু খাওয়া হয়। পাকা ফলের বিচি কালো এবং কাঁচা ফলের বিচি সাদা। আর এই ফলটি খাওয়ার সময় ফলের রসালো অংশ খাওয়া হয় এবং বেছে ফেলে দিতে হয়। এই ফলের রসালো এই অংশটুকু অনেক গুনাগুন রয়েছে।

পুষ্টি গুণে ভরপুর এই ফলটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। ফলটির প্রতি ১০০ গ্রামে পাওয়া যাবে শর্করা ২৫ গ্রাম, পানি ৭২ গ্রাম, প্রোটিন ১.৭ গ্রাম, ভিটামিন এ ৩৩ আইইউ, ভিটামিন সি ১৯২ মিলিগ্রাম, থিয়ামিন ০.১ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাবিন ০.১ মিলিগ্রাম, নিয়াসিয়ান ০.৫ মিলিগ্রাম, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড ০.১ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩৮২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৪ মিলিগ্রাম। তাই আতা ফল খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরের ভিটামিনের অভাব পূরণ হয় সাথে শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

আতা ফল খাওয়ার উপকারিতা

আমরা আতা ফলের উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই জানিনা। আতাফল ঔষধি হিসেবেও কাজ করে যা শরীরের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক আতা ফল খাওয়ার উপকারিতা।

বদ হজম দূর করে– আতা ফলে রয়েছে তামা ও ডায়াটেরি ফাইবার এর ফলে সহজে হজম হয় এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আতা ফলের গুড়া এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খেলে আপনার ডায়রিয়ার সমস্যাও মুহূর্তেই গায়েব হবে।

দাঁত ও মাড়ি মজবুত করে– বয়সের সাথে সাথে দাঁতের ক্ষয় বৃদ্ধি পায় এক্ষেত্রে আতা ফল সুফল তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে সপ্তাহেj একবার হলেও দাঁত পরিষ্কার করার জন্য। আতা ফলের চামড়া ‌ ব্যবহার করলে দাঁত ক্ষয় রোধ হয় এবং মাড়িকে আরো মজবুত করা যায়।

ক্ষত সারানোর ক্ষেত্রে– বিভিন্ন কারণে শরীরে ক্ষত হয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে আতা ফলের অনেক ভূমিকা রয়েছে আতা ফলের মাধ্যমে ক্ষত সারানো যায়। ‌ ক্ষতস্থানের ক্ষত সারানোর জন্য আতা ফলের বীজ অনেক কার্যকারী। গবেষকদের মতে, বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের গভীরে থাকা কোষের পুনঃবৃদ্ধি পায় এবং ক্ষত স্থানের ব্যথা তাৎক্ষণিকভাবে পালায়। এই বীজে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টি রয়েছে।

ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণ– যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের জন্য আতা একটি উপকারী ফল। আতা ফল রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, কাস্টার্ড আপেলের ডায়াবেটিস ফাইবারের উপস্থিতিতে চিনির শোষণ কমানো যায়।

হাড়ের গঠন মজবুত করে– হাড়ের গঠন মজবুত রাখার জন্য প্রয়োজন হয় ক্যালসিয়াম যা আতা ফলে রয়েছে। শরীরের হাড় গঠন ও মজjবুত রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে ক্যালসিয়াম সরবারহ করতে সক্ষম এই ফলটি। তাই হাড় মজবুত করতে আতা ফল খাওয়া উচিত।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে– ‌ যাদের দৃষ্টি শক্তি দুর্বল তাদের জন্য আতা একটি উপকারী ফল। আতাফল দৃষ্টি শক্তি বাড়িয়ে তুলে। আতাফলে রিবোফ্লাভিন ও ভিটামিন সি আছে। আর এই ভিটামিন উপস্থিতির কারণে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে। সেক্ষেত্রে আতা ফল অনেক সjহায়ক। যাদের চোখের সমস্যা তারা আতা ফল খাবেন, এতে আপনার চোখের উপকার হবে।

হার্ট অ্যাটাকj প্রতিরোধ– আতা ফল হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রেও কার্যকারী। আতা ফলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম আপনার কার্ডিয়াক সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে এতে থাকা ভিটামিন বি-৬ হোমোকিসস্টাইন নিয়ন্ত্রণ করে। এবং এই ফলে আছে অ্যামিনো অ্যাসিড যা হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

ত্বক ও চুলের যত্নে– আতা ফল শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ি তোলে এবং চুলের যত্নেও কার্যকারী। আতা ফলের ভিটামিন এ। ভিটামিন এ থাকার ফলে ত্বক ও চুলের অনেক ভালো। এটি যখন ত্বক ও চুলে ব্যবহার করা হয় তখন এটি ময়শ্চারাইজিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করে। এমনকি এটি আপনার চেহারায় বয়স্কের ছাপ প্রতিরোধ করে। আতা ফলেরর ছোট ছোট কোষগুলো আলসারের বিরুদ্ধে কার্যকরী।

গর্ভাবস্থায় সহায়ক– গাইনোকোলজির মতে, গর্ভাবস্থায় আতা ফল খাওয়া গর্ভপাতের ঝুঁকি হ্রাস করে। সকালের দূর্বলতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং শারীরক ব্যাথার উপশম ঘটায়। গর্ভাবস্থার পরে আতা ফল খাওয়ার ফলে স্তনে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায় আতা ফলের এই গুনাগুন অনেক উপকারী।

এছাড়াও আতাফল শরীরের ডিএনএ ও আরএনএ সংশ্লেষণ, শক্তি উৎপাদনের জন্য ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি ও খনিজ পদার্থসমূহ সরবরাহ করে থাকে।

আশা করা যায় আতা ফলের এই গুণাগুণ সম্পর্কে আপনারা খুব সহজে জানতে পেরেছেন। আতা ফলের এই গুনাগুন পাওয়ার জন্য খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখা উচিত।

আতা ফল খাওয়ার নিয়ম

আতা ফল কিছুটা নোনতা হওয়ার কারণে অনেকের কাছে এই ফল ভালো লাগে, আবার অনেকের কাছে ভালো লাগে না। তবে এর পুষ্টিগুণ পাওয়ারj জন্য অবশ্যই ফলটি খাওয়া উচিত।

আতা ফল খুব সহজেই খাওয়া যায় আতা ফল পেকে গেলে আতা ফলের উপর কিছুটা চাপ দিলে ফলটি ভেঙে যায়। আতা ফল ভেঙে ভেতরের অংশের কোষ থেকে রসালো অংশটি খাওয়া হয়। ফলটির অনেক গুনাগুন রয়েছে এ গুণাগুণ আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তাই আতা ফলটি অবশ্যই খাওয়া উচিত। তবে এই ফল খাওয়ার আগে সকালের নাস্তা করে নেয়াই ভালো।

আতা ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

আতা ফলের গুনাগুন বা উপকারিতা দিকগুলো আমরা উপরে থেকে জানতে পেরেছি। আতা ফল আমাদের শরীরের ভিটামিনের অভাব দূর করে ও ক্যালসিয়ামের অভাব দূর করে। আতাফল আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আমাদের উচিত আতাফল এর এই গুনাগুন গুলো পাওয়ার জন্য খাদ্য তালিকায় আতাফল রাখা।

তবে আতা ফলের কিছু অপকারিতা দিকগুলো খেয়াল রাখা উচিত। যে সব রোগের ক্ষেত্রে আতা ফল খাওয়ার আগে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক

ওজন বৃদ্ধি করে– যারা ওজন বৃদ্ধি করতে চান না বা অতিরিক্ত মেদ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে আতা ফল না খাওয়াই ভালো। আবার যারা ওজন বাড়াতে চায় তাদের ক্ষেত্রে আতা ফল খাওয়া ভালো। ওজন বাড়াতে যা করণীয় একটি বাটি নিন, কিছু মধু এবং আতা ফলের ছোট ছোট বীজগুলো মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরী করুন। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি খান। দেখবেন কয়েক মাসের মধ্যে আপনার ওজন বেড়েছে।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আতা ফল না খাওয়াই ভালো। আতা ফল খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। এছাড়াও অতিরিক্ত আতা ফল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে, বমি গ্যাস পেট ব্যথার মত সমস্যা হতে পারে

আতা স্বাস্থ্যকর একটি ফল যা শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত।

আতা ফলের ছবি

অনেকেই আতা ফলের ছবি সংগ্রহ করতে চায়। তাই আমরা এই পোস্টে আতাফলের ছবি তুলে ধরেছি। আশা করা যায় আজকের এই পোস্ট থেকে খুব সহজেই আতা ফলের ছবিটি সংগ্রহ করতে পারবেন।

আতা ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা

শেষ কথা

আশা করি আজকের এই পোস্ট থেকে খুব সহজেই আতা ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা দিকগুলো জানতে পেরেছেন। যদি আজকের এই পোস্ট আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে। তাহলে অবশ্যই আপনাদের বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করতে পারেন। এছাড়াও আমাদের ওয়েবসাইটে স্বাস্থ্য বিষয়ে আর্টিকেল রয়েছে। আপনারা চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট ভিডিট করে সাস্থ বিষয়ে আর্টিকেল পড়তে পারেন এতে করে আপনাদের উপকারে আসতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button