সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ, ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদ সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন। আপত্তিকর ও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি এবং তা অর্থের বিনিময়ে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং অনলাইনে সুমাইয়া সাঈদের ভাইরাল লিংক নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
কীভাবে কাজ করত সুমাইয়া সাঈদের এই চক্র?
ডিবির সাইবার পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, সুমাইয়া সাঈদ (২৫) এবং তার সহযোগীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করত। তাদের প্রধান টার্গেট ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী তরুণ সমাজ। সামাজিক মাধ্যমে যেকোনো ফেসবুকে নতুন ভাইরাল ভিডিও লিংক ছড়িয়ে দিয়ে তারা গ্রাহক আকর্ষণ করত।
প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার: ইনস্টাগ্রাম এবং টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করত। এসব চক্রের তথ্য নিয়মিত Telegram x Group Link এর মাধ্যমেও সামনে আসে।
বিজ্ঞাপন ও বিক্রি: প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর ভিডিওর ট্রেইলার বা বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। এরপর আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে সাবস্ক্রিপশন বা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে সেসব ভিডিও সরবরাহ করা হতো।
অর্থ লেনদেন: ভিডিও বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ লেনদেন হতো বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার (MFS) মাধ্যমে।
সহযোগী ও বাবার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
সুমাইয়ার এই বেআইনি কাজের প্রধান সহযোগী হিসেবে খাজা সাকলাইন ফারুক নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এই চক্রে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদের নাম উঠে আসার বিষয়টি। পুলিশের তদন্তে জানা যায়:
মেয়ের এই অবৈধ কর্মকাণ্ড ও আয়ের উৎস সম্পর্কে বাবা আবু সাঈদ পুরোপুরি অবগত ছিলেন।
এই খাত থেকে উপার্জিত অর্থ তিনি জেনেশুনেই গ্রহণ করতেন এবং কাজে প্রচ্ছন্ন সমর্থন জোগাতেন।
এ কারণে তাকেও এই মামলায় অন্যতম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
Sumaiya Saiyed Instagram ও আইনি পদক্ষেপ
এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে সুমাইয়া সাঈদ, তার সহযোগী ও বাবার বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২’-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে ইন্টারনেটে নতুন ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিও যেমন সুমাইয়া রিমু ভাইরাল ভিডিও লিংক এবং অন্যান্য নতুন বাংলাদেশি ভাইরাল ভিডিও লিংক 2026 নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

ডিবি পুলিশ বর্তমানে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর নেপথ্যে থাকা বাকিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। যেকোনো আপডেট বা তথ্যের জন্য tipsnetbd এর সাথেই থাকুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
সুমাইয়া সাঈদ কেন গ্রেপ্তার হয়েছেন?
আপত্তিকর ও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি করে অর্থের বিনিময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্রির অভিযোগে ডিবি পুলিশ সুমাইয়া সাঈদকে গ্রেপ্তার করেছে।
সুমাইয়া সাঈদের বিরুদ্ধে কোন আইনে মামলা হয়েছে?
তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় রমনা মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।
এই মামলায় আর কারা অভিযুক্ত?
সুমাইয়া সাঈদের সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুক এবং তার বাবা মো. আবু সাঈদ এই মামলায় অভিযুক্ত।
