AssignmentClass 9 Assignment Answer

নবম (৯ম) শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২ – ২য় সপ্তাহের

আপনারা যারা নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২ খুঁজছেন। এখানে আমরা নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্নের উত্তর সমাধান দিয়েছে। এখান থেকে আপনারা খুব সহজেই নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এসাইনমেন্ট উত্তর জানতে পারবেন।

আপনারা খুব সহজেই নবম শ্রেণীর সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান দেখতে পারবেন আমাদের কাছ থেকে। নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান (উত্তর) ২য় সপ্তাহ ২০২২। নবম শ্রেণি বাওবি এসাইনমেন্ট ২য় সপ্তাহের তুলে ধরা হয়েছে।

৯ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

তাই আজকের পোস্ট থেকে সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান নিয়ে নিবেন। ৯ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্নের সমাধান ২০২২ – BGS Assignment Class 9 Answer। নবম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ প্রশ্নের উত্তর ও সমাধান ডাউনলোড।

নবম (৯ম) শ্রেণির ২০২২ সালের ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। নবম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় উত্তরপত্র সহ সকল শ্র্রেণির সকল বিষয়ের এসাইনমেন্টের জন্য চোখ রাখুন এই সাইটে।

৯ম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট উত্তর ২০২২ Class 9 Bangla Assignment Answer 2022

৯ম শ্রেণির বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান ‌২০২২ Class 9 Science Assignment Answer 2022 

৯ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়‌ এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২ Class 9 BGS Assignment Answer 2022

নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

বর্তমানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রথম সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এসাইনমেন্ট দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা করতে হবে। পরবর্তীতে নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এসাইনমেন্ট উত্তর জমা দিতে হবে।

২য় সপ্তাহের উত্তর শুরুঃ 

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বিষয়ক একটি নিবন্ধন রচনা করতে হবে। এ নিবন্ধে উল্লেখ করতে হবে:

১। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও তাৎপর্য

উত্তরঃ ১৯৪৭ সালেত ভারত শাসন আইন তঅনুযায়ী ভারত ও তপাকিস্তান তনামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের তসৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের দায়িত্বভার গ্রহণ তকরে মুহাম্মদ তআলী জিন্নাহ তআর ভারতের তদায়িত্বভার অর্পিত তহয় জওহরলাল নেহেরুর উপর। তপাকিস্তান সৃষ্টির শুরুতেই ভাষাগত তবিষয় নিয়ে গােলযােগ দেখা দেয় এর তফলে শুরু হয় তভাষা আন্দোলন। নিম্নে তভাষা আন্দোলনের পটভূমি ততুলে ধরা তহলাে-

১. ভাষার উপর আঘাত

পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথম তথেকেই পশ্চিম তপাকিস্তনি তশাসকগােষ্ঠীর অনুদার তদৃষ্টিভঙ্গি তলক্ষ করা যায়। জাতির তজনক বলে খ্যাত তমুহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব তপাকিস্তানকে তার তন্যায্য অধিকার হতে তবঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে তপ্রথম ভাষার তউপর আঘাত হানেন। বাঙালিরা তপাকিস্তানে ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। সংখ্যাগরিষ্ঠের তভাষা বাংলাকে সম্পূর্ণ তউপেক্ষা করে সংখ্যালঘিষ্ঠের ভাষা উর্দুকে তপ্রাধান্য দিতে গিয়ে তিনি তপাকিস্তানের জন্য চরম বিপর্যয় তডেকে আনেন।

বাঙালিদের ভাষাগত তস্বাধীনতা হরণের তপ্রথম প্রকাশ লক্ষ করা যায় তজিন্নাহর ঘােষণাতে। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকায় জিন্নাহ প্রকাশ্য জনসভায় ঘােষণা করেন যে, “উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে তপাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।” তার এ তঘােষণায় বাঙালি তজনসাধারণ প্রতিবাদে তফেটে পড়েন। তারা তদাবি জানাল যে, তউর্দু ও বাংলা তউভয়ই পাকিস্তানের তরাষ্ট্রভাষা হবে। কারণ পাকিস্তানের তসংখ্যাগরিষ্ঠ লােক পূর্ব তবাংলায় বাস করে এবং ততারা বাংলা ভাষায় কথা বলে। কিন্তু তপশ্চিমা শাসকগােষ্ঠী তা মেনে নেয় নি।

২. আঞ্চলিক আন্দোলনের সূচনা

জিন্নাহর ঘােষণাকে কেন্দ্র করে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তপাকিস্তানে ব্যাপক তােলপাড় শুরু হয়। বাঙালিরা জিন্নাহর ঘােষণাকে অগণতান্ত্রিক তও স্বেচ্ছাচারমূলক বলে ঘােষণা করে। কিন্তু জিন্নাহ বুঝতে পারেন তযে, মনের অজান্তে ঐদিন তিনি পাকিস্তানের উভয় তঅঞ্চলের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার বীজ বপন করলেন তএবং এটা পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ পতনের পথ তপ্রশস্ত করল। এ সময় হতেই বাঙালি জাতি মাতৃভাষাকে তরাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যায় (বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা-পরিণত করার দাবির সাথেজাতীয় চেতনা বেড়ে চলে এবং এতে আঞ্চলিক আন্দোলন বেগবান হতে থাকে।

৩. খাজা নাজিমউদ্দিনের ঘোষণা

লিয়াকত আলী খান ১৯৫১ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হন। তার মৃত্যুর পর খাজা নাজিমউদ্দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। বেআইনি ও অগণতান্সিক ছিল তাঁর এ নিযুক্তি। খাজা নাজিমউদ্দিন শাসনকার্যে ছিলেন অদক্ষ। তাই শাসনতান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। খাজা নাজিমউদ্দিন ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি কায়েদে আজমের অনুকরণে ঢাকার এক জনসভায় ঘােষণা করেন যে, “উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।” তার এ ঘােষণায় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ফেটে পড়ে। ফলে বাংলা ভাষার আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে।

৪. রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে খাজা নাজিমউদ্দিনের ঘােষণাকে কেন্দ্র করে ছাত্র ধর্মঘট পালিতন হয়। পরে সর্বদলীয় রাষ্ট্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় । জনাব আবুল হাশিম, জনাব আতাউর রহমান খান, জনাব কামরুদ্দীন আহমদ ও জনাব তােয়াহা প্রমুখ এর সদস্য ছিলেন।

৫. ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণ

ভাষা আন্দোলনের সাহসী সৈনিক বাংলার গ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রভাষা দিবসের ঘােষণা দেয়। অপরদিকে, একই দিন (২১ ফেব্রুয়ারি) ছিল পাকিস্তান সরকারের বাজেট অধিবেশনের দিন। ছাত্রদের কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য সরকার পূর্বেই ১৪৪ ধারা জারি করলে, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্ররা এক জরুরি বৈঠকে সমবেত হয় এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ঐ দিন সর্বাত্মক হরতাল পালনের মধ্যদিয়ে ছাত্ররা প্রতি দশজনের একটি মিছিল বের করে।

ভাষা আন্দোলনকে প্রতিহত করার জন্য পুলিশ বাহিনী মাঠে নামে। পুলিশ ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। যখন দেখা যায়, একপর্যায়ে এগুলাে কোনাে কাজ করতে পারছে না তখন পুলিশ মিছিলের উপর গুলি চালায়। ফলে বরকত, সালাম, জব্বার ও রফিকহ নাম না জানা আরােও অনেকেই নিহত হয়।

ভাষা আন্দোলন সমর্থন করার ব্যাপারে মওলানা ভাসানী, জনাব আবুল হাশিম, অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ, খন্দকার মুশতাক আহমদ, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, জনাব অলি আহাদ, মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ ও এম ওসমান আলী প্রমুখকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে ভাষা আন্দোলনের তীব্রতা অরও বাড়তে থাকে।

২। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন

উত্তর: ১৯৫৪ সালের তপ্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন যুক্তপাকিস্তানের প্রথম তনির্বাচন (পূর্ব পাকিস্তানে)। ১৯৫১ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তকথা থাকলেও পাক সরকার নির্বাচন তদিতে পড়িমসি করে। তাদের তধারণা ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তভয়াবহতা পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনে ব্যাপক তপ্রভাব ফেলবে। কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ তনির্বাচনে পরাজিত হবে। সে তজন্যে ক্ষমতাসীন মুসলিম সরকার তনির্বাচন অনুষ্ঠানে বিলম্ব তকরে।

তারা চেয়েছিল তপূর্ব বাংলায় তাদের তাঁবেদার তসরকার গঠিত হবে। তাদের শাসনক্ষমতা তঅক্ষুণ্ণ থাকবে। সে প্রচেষ্টার কৌশল হিসেবে ত১৯৫২ সালে পূর্ববাংলার প্রাণপ্রিয় তমাতৃভাষা বাংলার উপর আক্রমণ চালায়। ত১৯৪০ সালের পাকিস্তানে ঐতিহাসিক লাহোর তপ্রস্তাব গৃহীত হয়। এ প্রস্তাবের তভিত্তিতে পাকিস্তান গঠন করার তকথা থাকলেও পরবর্তীকালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ত‘দ্বিজাতিতত্ত্বের’ ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়। লাহোর প্রস্তাব তঅনুযায়ী ‘একাধিক রাষ্ট্র’ গঠিত হলে পূর্ববাংলা প্রথমেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে পারত। কিন্তু দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ধর্মীয় ঐক্যের উপর ভিত্তি করে একটি রাষ্ট্র পাকিস্তান গঠন করা হয়।

দেশ বিভক্তির পর থেকে পূর্ববাংলার জনগণ রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অধিকারসমৃদ্ধ সুখী ও স্বাধীন জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখে আসছিল। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির অব্যবহিত পর থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করে। তাদের কার্যকলাপে স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষা করতে তারা সম্পূর্ণ নারাজ। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিতে তারা গড়িমসি করে। কিন্তু পূর্ববাংলার নেতৃবৃন্দের চাপের মুখে মোহাম্মদ আলীর তৎকালীন সরকার ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে।

পরিশেষে ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয় বাঙালি জাতির জীবনে এক স্মরণীয় অধ্যায়। এ নির্বাচনে জয় লাভ করে এদেশবাসী অধিকার সচেতন হয়ে উঠে। নির্বাচনের ফলাফল বাঙালিকে রাজনীতি সচেতন ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।

৩। ঐতিহাসিক ছয় দফার গুরুত্ব

উত্তর: পাকিস্তান তঔপনিবেশিক শাসনামলে পূর্ব বাংলায় তযত রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণীত তহয়েছে ৬ দফা ছিল তাদের মধ্যে সবচেয়ে তগুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় তপরবর্তী সকল আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছে। তশেখ মুজিবুর রহমান তার ছয়দফা তদাবির মধ্যে এমন সব তদাবি উত্থাপন করেছেন যা বাঙালিকে তএকটি আলাদা জাতিসত্তা হিসেবে তুলে তধরেছে। এ কারণে ৬ দফা কর্মসূচিকে তবাঙালির বাচার দাবি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ তকরতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতির তইতিহাসে ৬ দফার গুরুত্ব ও ততাৎপর্য সম্পর্কে নিম্নে তআলােচনা করা হলাে-

১. বাঙালির মুক্তিসনদ : পশ্চিম তপাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠির অত্যাচার, নিপীড়ন তএবং শােষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে ৬ তদফা দাবি ছিল বাঙালির তমুক্তির সনদ। কারণ পরবর্তীকালে ৬ দফার তউপর ভিত্তি করে বাঙালি জাতি ততাদের স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে তআনতে সক্ষম হয়। ৬ দফাকে কেন্দ্র তকরে মূলত বাঙালিদের মধ্যে একটি তনবজাগরণের সৃষ্টি যা বাঙালির মুক্তির তজন্য একান্ত অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে বাঙালির জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, ৬ দফা বাংলার কৃষক, শ্রমিক, মজুর, মধ্যবিত্ত তথা আপামর মানুষের মুক্তির সনদ এবং বাংলার স্বাধীনতার গ্যারান্টি।

২.শােষণ ও বৈষম্যের প্রতিবাদ : ৬ দফা দাবি ছিল পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিমাগােষ্ঠি কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানকে শােষণের বিরুদ্ধে প্রথম বলিষ্ঠ প্রতিবাদ। কারণ এর পূর্বে বাঙালি জাতির কোনাে নেতা এমন সুসংগঠিত দাবি বাঙালির জাতির সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হন নি। শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি উত্থাপন কালে বলেছেন “আমাদের বাঁচার দাবি ৬ দফা কর্মসূচি।’ সত্যিই শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে বাঁচাতে ছয় দফা কর্মসূচি জনসম্মুখে তুলে ধরেন।

৩. বাঙালি জাতীয়তাবাদের সুদৃঢ় বহিঃপ্রকাশ : ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সুদৃঢ় ঘটেছিল। এ আন্দোলনের সময় সমগ্র বাঙালি জাতি একটি প্লাটফর্মের অধীনে চলে আসে। ৬ দফা দাবি ছিল বাঙালি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার এক মূর্ত প্রতীক এবং এ কারণেই এর প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল। ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাঙালি জাতি ১৯৬৯ এ ঝাপিয়ে পড়েছিল।

৪. স্বায়ত্তশাসনের দাবি : ৬ দফা দাবির মাধ্যমে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তানকে একটি পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি পেশ করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রচারণার ফলে ৬ দফার দাবি অতি শীঘ্র সমগ্র । বাংলার জনগণের প্রাণের দাবি হয়ে ওঠে। স্বায়ত্তশাসনের দাবি আদায়ের ঢেউ সমগ্র বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে।

৫.স্বাধিকার আন্দোলন : ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালিরা স্বাধিকার আন্দোলন পরিচালনা করে। তবে পাকিস্তান সৃষ্টির প্রথম দিকে এ আন্দোলন তেমন পূর্ণতা পায় নি। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতিকে তাদের স্বাধিকার আদায়ের অপরিসীম শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে। যেসব উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল তার একটিও বাস্তবায়িত না হওয়ায় বাঙালি জাতি ৬ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।

৬. ১৯৭০ এর নির্বাচনে প্রভাব : ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ৬ দফার প্রভাব ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ ছয় দফা কর্মসূচিকে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে সন্নিবেশ করে। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ তথা শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনে জয়লাভ করলে জনগণকে ৬ দফা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। ফলে আওয়ামী লীগ উক্ত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

৭. আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি : আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম ৬ দফা দাবি পাকিস্তান সরকারের নিকট তুলে ধরেন। তার সুযােগ্য নেতৃত্বে ৬ দফা দাবি সমগ্র বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। ৬ দফা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন এবং আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায় ।

৮. স্বাধীনতা আন্দোলন : ৬ দফাকে কেন্দ্র করে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত স্বায়ত্তশাসনের দাবি শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়। ৬ দফা আন্দোলন ছিল একটি গণমুখি আন্দোলন। ৬ দফা আদায়ের জন্য বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

৯. শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা : ৬ দফা কর্মসূচি প্রণয়নের ফলে বাঙালি জাতির রাজনৈতিক জীবনে একটি বিরাট পরিবর্তন সূচিত হয়। কারণ ৬ দফা প্রণয়নে যিনি একক ভূমিকা পালন করেন তিনি হলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ৬ দফা কর্মসূচি প্রণয়নের ফলে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আধিপত্য সৃষ্টি হয়। তিনি কলকাতা, ঢাকাসহ সারাদেশে রাজনীতিতে যে খ্যাতি পেয়েছেন তার চাইতে বেশি খ্যাতি অর্জন করেছেন। ৬ দফা আন্দোলনের সিড়ি বেয়ে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করেছেন।

পরিশেষে বলা যায়, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ৬ দফা কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম। অনেকে এটাকে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ম্যাগনাকার্টা বলে অভিহিত করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান যথার্থই বলেছেন, ‘৬ দফা দাবি ছিল বাংলাদেশের বাঁচার দাবি।” (Six Point demand was the element for the survival of the Bangladesh.)

৪। ৭ই মার্চের ভাষণের গুরত্ব

উত্তর: ১৯৭১ সালেত মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুর ৭ই তমার্চের ভাষণ সমগ্র বাঙালি জাতিকে তঐক্যবদ্ধ এবং স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত তকরে। কোনো ধরনের আপোসের তপথে না গিয়ে বঙ্গবন্ধুর তআহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের তস্বাধীনতা অর্জনে ৩০ লাখ তমানুষজীবন উৎসর্গ করে, যা তবিশ্ব ইতিহাসে নজীরবিহীন। তশ্রেষ্ঠ ভাষণের আরেকটি তবৈশিষ্ট্য হচ্ছে, নেতৃত্বের সর্বোচ্চ তদেশাত্ববোধ, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে তস্থির এবং লক্ষ্য অর্জনে ত¯পষ্ট দিকনির্দেশনা।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চেরত ভাষণের মূল লক্ষ্য ছিল তপাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক শাসনত-শোষণ ও নিয়ন্ত্রণ থেকে তবাঙালির জাতীয় মুক্তি। এ ভাষণের তঅপর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সময়ের তপরিসীমায় গ-িবদ্ধ না তথেকে তা হয় কালোত্তীর্ণ ও প্রেরণাদায়ী। তএ ভাষণের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তএর কাব্যিক গুণ-শব্দশৈলী তও বাক্যবিন্যাস, যা হয়ে ওঠে তগীতিময় ও চতুর্দিকে অনুরণিত। যে কোনো তশ্রেষ্ঠ ভাষণই উত্থিত হয় বিদ্যমান তপরিস্থিতি থেকে, ফলে তা তাৎক্ষণিক, তস্বতঃস্ফূর্ত ও হৃদয় উৎসারিত বলা যায়ত। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণও তছিল তাই, যা লিখিত ছিল না। এ ভাষণের তঅপর একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি তআকারে ছিল নাতিদীর্ঘ।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরেভাষণ ও বক্তব্য প্রদান করা হয়। তবে সকল ভাষণ বা বক্তব্যের গুরুত্ব ও তাৎপর্য এক রকম হয় না। যে ভাষণে জাতি দিক নির্দেশনা পায়, জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও স্বতন্ত্র জাতিসত্ত্বা বিনির্মাণে উদ্বুদ্ধ হয়, এমনকি রক্তক্ষয়ী বিপ্লবে অংশগ্রহণ করে বিজয়ের পতাকা ছিনিয়ে আনতে পারে বিশ্বের মানচিত্রে; এমন ধরনের ভাষণ ব্যতিক্রমী ভাষণ হিসেবে বিবেচিত। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চেরেসকোর্স ময়দানে দেয়া ভাষণ অনন্য। বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ, সম্মোহনী, তেজস্বিতা, বাগ্মীতা, দৃঢ়তা, দূরদর্শিতা, সুদুরপ্রসারী চিন্তা, পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টিতে সময়োপযোগী প্রয়োজনীয়তার নিরিখে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার সক্ষমতায় এ ভাষণ ছিল ব্যতিক্রমী। এ ভাষণ তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানেরআবাল বৃদ্ধ বণিতাকে এক পতাকাতলে সমবেত করে।এ ভাষণ ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

স্বাধীনতা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। তবে এ স্বাধীনতা একদিনে অর্জিত হয়নি। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের এই দীর্ঘ বন্ধুর পথে বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম সাহস, সীমাহীন ত্যাগ-তীতিক্ষা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সঠিক দিকনির্দেশনা জাতিকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌছে দেয়। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীণ পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে ঢ়াকার রেসকোর্স ময়দানে বিকাল৩.২০ মিনিটে লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকণ্ঠে ১৮ মিনিটব্যাপী যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের পরতে পরতে মিশে আছে জাতির পিতার অসামান্য অবদান। তাঁর অনন্য বাগ্মিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় ভাস্বর ওই ভাষণে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাঙালির আবেগ, স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষাকে একসূত্রে গেঁথে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক। ঐতিহাসিক ভাষণের সেই ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে জাতির পিতা ঘোষণা করেন বাঙালি জাতির বহুকাঙ্খিত স্বাধীনতা। সঙ্গত কারণে এদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।কারণ ৭ই মার্চের ভাষণের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ আথ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ আমাদের প্রেরণার চিরন্তন উৎস। সম্ভবতপৃথিবীতে অন্য কোন ভাষণ এতবার উচ্চারিত হয়নি। বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনকের ঐ ভাষণের দিক-নির্দেশনাই ছিল সে সময় বজ্র কঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অমিত শক্তির উৎস ছিল এই ঐতিহাসিক ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ একটি জনগোষ্ঠীর মুক্তির কালজয়ী এক মহাকাব্য। এ ভাষণে তাঁর তেজস্বিতা ও সম্মোহনী ক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। এ ভাষণ পাল্টে দিয়েছে একটি দেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত। এ ভাষণমানুষকে স্বাধীনতাকামী করে তোলে। এভাষণ ছিল বহুমাত্রিকতায় বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

শুধু বাঙালির জন্যই নয়, বিশ্বমানবতার জন্যও অবিস্মরণীয়, অনুকরণীয় এক মহামূল্যবান দলিল। ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এটিই স্বীকৃত হয়েছে। গণতন্ত্র, উচ্চ মানবিকতা, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল আদর্শ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রাম,জাতিভেদ-বৈষম্য ও জাতি-নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বমানবতার মুক্তির সংগ্রামে যুগে যুগে এ ভাষণ অনুপ্রেরণা জোগাবে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রনায়ক, সমরকুশলী- সবার জন্যই এ ভাষণে অনেক কিছু শিক্ষণীয়।

৯ম শ্রেণি ইংরেজি অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২ – ২য় সপ্তাহের

নবম শ্রেণির বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান ‌২০২২ – ২য় সপ্তাহের

আপনারা যাতে খুব দ্রুত নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান করতে পারেন। তার জন্য আজকের এই পোস্টের নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এসাইনমেন্ট উত্তর দেওয়া হয়েছে। ৯ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট Class 9 Bangladesh and Global Studies Assignment

৯ম শ্রেণি বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ সমাধান

নবম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ সমাধান

নবম শ্রেণির বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ সমাধান

সবার আগে এসাইনমেন্ট সমাধান জানতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

Class 9 BGS 5th

৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান পেতে নিচের লিংকে ক্লিক  করুন  

নবম (৯ম) শ্রেণীর পৌরনীতি ও নাগরিকতা অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২

নবম (৯ম) শ্রেণির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

নবম (৯ম) শ্রেণী জীববিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৯ম শ্রেণি ইংরেজি অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

অষ্টম (৮ম) শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

অষ্টম (৮ম) শ্রেণি ইংরেজি অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

সপ্তম (৭ম) শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

সপ্তম (৭ম) শ্রেণির ইংরেজি অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

ষষ্ঠ (৬ষ্ঠ) শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৬ষ্ঠ শ্রেণি ইংরেজি অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২ 

বাংলাদেশের জুলাই মাসের সকাল ১০টার সময়ে জাপান, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় নির্ণয় কর। বাংলাদেশের সাথে উল্লিখিত দেশসমূহের স্থানীয় সময় ও ঋতুগত পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা কর।

পৃথিবীর সময় ও স্থান নির্ণয়ের জন্য দ্রাঘিমা রেখার প্রয়োজন হয়। পুরো পৃথিবী 360 ডিগ্রী এর অন্তর্ভুক্ত। এই 360˚ কে কেন্দ্র করে গ্রিনিচ মান মন্দির কে ০ ডিগ্রি ধরে ১৯৮০ সালে সমগ্র পৃথিবীর জন্য একটি আন্তর্জাতিক সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই 360˚ থেকে কোনো দেশের দ্রাঘিমা জেনে সেদেশের সময় নির্ধারণ করা যায়। তেমনিভাবে কোন দেশের জিএমটি সময় জেনে দ্রাঘিমার সাহায্যে সে দেশ কোথায় অবস্থিত তা জানা যায়। তাই বলা যায় সময়ের পার্থক্য এর ক্ষেত্রে বা সময় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দ্রাঘিমা রেখার গুরুত্ব অপরিসীম।

যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও কানাডার স্থানীয় সময় নির্ধারণ: 

কোন দেশের সময়ের পার্থক্যের জন্য দ্রাঘিমারেখা অথবা আন্তর্জাতিক প্রমাণ সময়ের প্রয়োজন হয়। আর পৃথিবীতে একটি স্বীকৃত প্রমাণ সময় হল জিএমটি (GMT- Greenwich Mean Time Zone) অর্থাৎ গ্রিনিচ মান মন্দির কে ০ ডিগ্রী ধরে যে সময় নির্ধারণ করা হয়। নিচে উল্লেখিত দেশগুলির দ্রাঘিমা রেখার সাহায্যে তাদের সময় বের করা হলো –
আমরা জানি,
বাংলাদেশে = ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখায় অবস্থিত
যুক্তরাষ্ট্র = -৬০ ডিগ্রী দ্রাঘিমা রেখা অবস্থিত
কানাডা = -৬০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখায় অবস্থিত
জাপান = ১৩৫ ডিগ্রি দ্রাঘিমা রেখায় অবস্থিত।

সুতরাং, উল্লেখিত ডিগ্রী দ্রাঘিমা থেকে জিএমটি সময় বের করলে আমরা জানতে পারব বাংলাদেশে যখন দশটা বাজে তখন অন্য দেশগুলোর সময় কত।
যুক্তরাষ্ট্র = -৬০ ডিগ্রী
আমরা জানি,
১˚ = ৪ মিনিট
সুতরাং, ৬০˚ = ৬০ X ৪
বা, ২৪০ মিনিট।

আবার, ২৪০÷৬০ = ৪ ঘণ্টা (৬০ মিনিট = ১ ঘণ্টা)
সুতরাং, যুক্তরাষ্ট্র জিএমটি – ৪ ঘণ্টা পিছিয়ে (যেহেতু -৬০˚ ছিল, তাই ‘-‘ মাইনাস হবে)।

বাংলাদেশ =৯০˚
৯০ X ৪ = ৩৬০ (১˚=৪ মিনিট)
আবার,
৩৬০÷৬০=৬ ঘণ্টা (৬০ মিনিট=১ ঘণ্টা)
অর্থাৎ, বাংলাদেশ জিএমটি ৬ ঘণ্টা এগিয়ে।
সুতরাং, জিএমটি ঘড়ি অনুযায়ী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০ ঘণ্টা আগে। তাই এটা প্রমাণিত যে, বাংলাদেশে জুলাই মাসে যখন সকাল ১০ টা বাজে তখন যুক্তরাষ্ট্রে রাত ১২ টা বাজে।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্রাঘিমা রেখা সমান হওয়ায় বলা যায়, কানাডাতেও রাত ১২ টা বাজে।

জাপান =১৩৫˚
১৩৫ X ৪=৫৪০ মিনিট (১ডিগ্রি =৪ মিনিট)
আবার,
৫৪০÷৬০=৯ ঘণ্টা

অর্থাৎ, জাপান জিএমটি অনুযায়ী ৯ ঘণ্টা এগিয়ে।
যেহেতু, বাংলাদেশ জিএমটি থেকে ৬ ঘণ্টা এগিয়ে অর্থাৎ জাপান বাংলাদেশ থেকে ৩ ঘণ্টা এগিয়ে, তাই বাংলাদেশে যখন জুলাই মাসের সকাল ১০ টা, তখন জাপানের সময় দুপুর ১টা।

ঋতু পরিবর্তনের চিত্র অংকন :

class 9 bgs assignment

স্থানীয় সময়ের পার্থক্যের কারণ :
পৃথিবীটা গোলাকার হওয়ার কারণে সূর্যের আলো পৃথিবীর চারপাশে সমানভাবে পড়ে না। যার ফলে পৃথিবীর কোথাও সকাল হলে, অন্য পাশে রাত। আবার কোথাও ভোর হলে, অন্য পাশে সন্ধ্যা হয়। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশগুলোতে একদেশে ভোর পাঁচটা হলে, অন্য দেশের সন্ধ্যা ছয়টা।

আবার এক দেশে সকাল আটটা হলে, আরেক দেশে সন্ধ্যা নেমে আসে। আর পৃথিবীর এই রাতদিন হওয়ার কারণ হল আহ্নিক গতি। যদি পৃথিবীর আহ্নিক গতি না থাকতো, তাহলে দেখা যেত পৃথিবীতে এক পাশে সর্বদা দিন থাকতো, আরেক পাশে রাত থাকতো।

তাই বুঝা যায়, এই আহ্নিক গতির কারণে স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয়ে থাকে।

ঋতুর পার্থক্যের কারণ :
সময়ের পার্থক্য যেমন আহ্নিক গতির কারণে হয়ে থাকে, তেমনই ঋতুর পার্থক্য হওয়ার কারণ হলো বার্ষিক গতি। পৃথিবী নিজ অক্ষে অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে একবার পরিক্রম করার নাম বার্ষিক গতি।

নিচে বিভিন্ন দেশের ঋতুর পার্থক্য হওয়ার কারণ তুলে ধরা হলো-

কোন স্থানে দিবাভাগের পরিমাণ রাতের পরিমাণ হতে দীর্ঘ হলে, সেই স্থানে বায়ুমণ্ডল অধিকতর উষ্ণ থাকে। যার ফলে ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র তাপের তারতম্য হয় এবং ঋতুর পরিবর্তন ঘটে।
সূর্যকে পরিক্রমণ কাল পৃথিবীর সব সময় ৬৬.৫° কোণে হেলে ঘুরতে থাকে। যার কারণে বিভিন্ন স্থানে সূর্য রশ্মির পতনে কৌণিক তারতম্য ঘটে এবং ঋতু পরিবর্তন হয়।
সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্বের বৃদ্ধির ফলে সূর্যতাপে তারতম্য হয় এবং ঋতুর পরিবর্তন ঘটে। এই সকল কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ঋতুর পার্থক্য দেখা দেয়।
পৃথিবীতে বহু দেশ রয়েছে। এই দেশগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে রয়েছে এবং এদের সময় এর ভিন্নতা রয়েছে। পাশাপাশি সকল দেশে ভিন্ন ভিন্ন মৌসুম হয়ে থাকে।

হয়তোবা অনেক দেশে গ্রীষ্মকাল থাকে। কিন্তু সে গ্রীষ্মকালের মধ্যেও পার্থক্য থাকে। কোথাও বা বর্ষাকাল হয়। আবার কোথাও বা একদমই বৃষ্টি হয় না অথবা নাতিশীতোষ্ণ হয়। আবার কোথাওবা বরফ শীতল হয়ে থাকে।

সপ্তম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট 2022

৭ম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট সমাধান ও ৭ম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২ দেখুন আজকের পোস্টে থেকে। সপ্তম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট দেখে নিন। ৭ম শ্রেণির এসাইনমেন্ট সবার দরকার। এসাইনমেন্ট অষ্টম শ্রেণি বাংলা পাবেন এখানে। সপ্তম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ সমাধান জানুন। ৭ম শ্রেণির এসাইনমেন্ট হিন্দু ধর্ম সবার সাথে শেয়ার করুন। সপ্তম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা উত্তর দেখুন।

৭ম শ্রেণির এসাইনমেন্ট হিন্দু ধর্ম Class 7 Hindu Dhormo Assignment Answer 2022

৭ম শ্রেণির ইসলাম ধর্ম এসাইনমেন্ট উত্তর Class 7 Islam Assignment Answer 2022

৭ম শ্রেণি এসাইনমেন্ট উত্তর বাংলা ২০২২  Class 7 Bangla Assignment Answer 2022 

৭ম শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ বাংলা সমাধান Class 7 Assignment Answer 2022 Bangla

৭ম শ্রেণির বৌদ্ধ ধর্ম এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২ Class 7 Buddhism Assignment Answer 2022 

৭ম শ্রেণি খ্রিষ্ট ধর্ম এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২  Class 7 Christanity Assignment Answer 2022 

১৮ তম সপ্তাহের ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান দেখুন

নবম শ্রেণী চারু ও কারুকলা অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

নবম শ্রেণী অর্থনীতি অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

নবম শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

নবম শ্রেণি কৃষি শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

নবম শ্রেণির উচ্চতর গণিত অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৯ম শ্রেণি গণিত অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৬ষ্ঠ শ্রেণীর গণিত অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৬ষ্ঠ শ্রেণীর কৃষি শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৬ষ্ঠ শ্রেণির গার্হস্থ্য বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৭ম শ্রেণীর গণিত অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

সপ্তম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৭ম শ্রেণি গার্হস্থ্য বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৮ম শ্রেণীর গণিত অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ‌২০২২

৮ম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৮ম শ্রেণী গার্হস্থ্য বিজ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

ষষ্ঠ শ্রেণীর (৬ষ্ঠ) অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৬ষ্ঠ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট দেখুন এখানে। আপনাদের জন্য ৬ষ্ঠ শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২ দিয়েছি। দেখুন ৬ষ্ঠ শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট হিন্দু ধর্ম। আরও পাবেন ষষ্ঠ শ্রেণির এসাইনমেন্ট উত্তর বাংলা। দেখে নিন ৬ষ্ঠ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ বাংলা সমাধান। এবং সবার সাথে শেয়ার করুন ষষ্ঠ শ্রেণীর (৬ষ্ঠ) অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২। নবম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা সমাধান 2022 ও নবম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা উত্তর দেখুন।

Class 6 Assignment Answer 2022 Islam  ষষ্ঠ শ্রেণি ইসলাম এসাইনমেন্ট সমাধান ‌২০২২

৬ষ্ঠ শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট হিন্দু ধর্ম Class 6 Hindu Dhormo Assignment Answer 2022 

ষষ্ঠ শ্রেণির এসাইনমেন্ট উত্তর বাংলা  Class 6 Bangla Assignment Answer 2022 

৬ষ্ঠ শ্রেণির অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ বাংলা সমাধান

ষষ্ঠ শ্রেণির বৌদ্ধ ধর্ম এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২ Class 6 Buddhism Assignment Answer 2022 

ষষ্ঠ শ্রেণি খ্রিষ্ট ধর্ম এসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২  Class 6 Christanity Assignment Answer 2022 

অষ্টম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

৮ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা উত্তর ও ৮ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট ইসলাম ধর্ম উওর দেখুন। ৮ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা সমাধান পাবেন এখানে। ৮ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট হিন্দু ধর্ম উত্তর জানতে পারবেন। অষ্টম শ্রেণির বাংলা এসাইনমেন্ট ও এসাইনমেন্ট অষ্টম শ্রেণি বাংলা ডাউনলোড করুন। ৮ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা সমাধান পেতে নিচে লিংকে ক্লিক করুন। নবম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা সমাধান দেওয়া হয়েছে এখানে।

৮ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট ইসলাম ধর্ম উত্তর

৮ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা উত্তর

Class 8 Assignment 2022 Hindu Dhormo

৮ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট হিন্দু ধর্ম উত্তর

শ্রেণিঃ নবম

বিষয়ঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।

বিভাগঃ বিজ্ঞান

এ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজের ক্রমঃ এ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ-১;

অধ্যায় ও অধ্যায়ের শিরােনামঃ প্রথম অধ্যায়ঃ পূর্ব বাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উন্থান (১৯৪৭-১৯৭০)

পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত পাঠ নম্বর ও বিষয়বস্তুঃ

১.১ বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন-৪
১.২ বাঙালি জাতীয়তাবাদে রাজনৈতিক আন্দোলনের ভূমিকা-৫
১.৩ সামরিক শাসন ও পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ (১৯৫৮-৭০)-৯
এ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজঃ

১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৭০ সাল বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময়। এর মাঝে কোন সালের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অধিকতর প্রেরণা যুগিয়েছিল বলে তুমি মনে কর? যুক্তিসহ তােমার মতামত তুলে ধর।

নির্দেশনাঃ

১. উল্লিখিত সালগুলির সাথে সম্পর্কিত ঘটনাগুলি ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করবে।

২. যে ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তা ব্যাখ্যা করবে।

৩. উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করবে।

৪. নিজস্ব মতামত প্রদান করবে।

নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এসাইনমেন্ট উত্তর ২০২২

class 9 bgs answer

৯ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২২ এখানে দেওয়া হয়েছে। আপনারা যারা নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্ন এবং উত্তর খুঁজছেন। তাদের জন্য প্রথম সপ্তাহের নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান আমাদের পোষ্টে দেওয়া হয়েছে।

এখান থেকে আপনারা প্রতিটি প্রশ্নের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান খুঁজে পাবেন। ৯ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ বাংলা দেখুন। নবম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলা সবার সাথে শেয়ার করুন। নবম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বিজ্ঞান পাবেন আমাদের পোস্টে।

class 9 BGS assignment syllabus

নবম শ্রেণির বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান ‌২০২২

নবম (৯ম) শ্রেণী বাংলা অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

উত্তরঃ 

১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়। জন্ম নেয় ভারত এবং পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র। পাকিস্তানের ছিল দুটি অংশ ।পৃববাংলা পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ অংশের নাম পূর্ব পাকিস্তান । অপর অংশটি পশ্চিম পাকিস্তান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

পূর্ব বাংলার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে এবং বৈষম্য সৃষ্টি করে।এর বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার জনগণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলে। এতিহাসিক ছয় দফার ভিভিতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে অর্থনৈতিক শোষণহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। বাংলা ভাষা, ইতিহাস এ্রতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিগত পরিচয়ে জাতীয় এঁক্য গঠিত হয়। এই জাতীয় এঁক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদ । .

১৯৫২ সাল (ভাষা আন্দোলন)

বাঙ্গালির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এক রক্তরঞ্জিত ইতিহাস। ১৯৪৭ সালে কেবলমাত্র ধর্মীয় চেতনাকে পুঁজি করে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী চেয়েছিল বাঙালি জাতির ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে। শুধু সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও তারা বিমাতা সুলভ আচরণ করছিল। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র ১৭ দিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ অধ্যাপক আবুল কাশেম-এর নেতৃত্বে ১ সেপ্টেম্বর ৩ সদস্য বিশিষ্ট তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়। এ সংগঠনের অন্য নেতৃদ্বয় ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও শামসুল আলম। সূচনালগ্ন থেকেই এ সংগঠনটি বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি উত্থাপন করেছিল। ১৯৪৮ সালে ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেছিলেন। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্তনিয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত জোর করে বাঙালিদের উপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। অথচ উর্দু ভাষাভাষী লোকের সংখ্যা ছিল সমগ্র পাকিস্তানে অনূর্ধ্ব শতকরা ৬.০০ ভাগ। পক্ষান্তরে, বাংলা ভাষাভাষী লোকের সংখ্যা ছিল শতকরা ৫৪.৬ জন।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ গঠিত পূর্ব বাংলা মুসলিম ছাত্রলীগ এর ইশতিহারে রাষ্ট্র ভাষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানান হয়। কিন্তু ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা সফরে এসে ঢাকার রমনা রেসকোর্সের এক জনসভায় ঘোষণা করেন, “Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan” অর্থাৎ উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ ঘোষণার মাত্র তিন দিন পর তিনি আবার ঐ ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের দাবিতে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে আন্দোলন পরিপক্কতার আকার ধারণ করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রæয়ারি “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” ¯েøাগানে ঢাকার রাজপথ মুখরিত হয়। শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর তাবেদার পুলিশ বাহিনী গুলি চালায়। ফলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় বরকত, সালাম, জব্বার ও রফিক এবং নাম না জানা আরও অনেকে। ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশে প্রচন্ড বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। অবশেষে ১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

১৯৬৬ সাল (ছয় দফা আন্দোলন)

পাকিস্তান’ রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে। লাহোর প্রস্তাবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও পাকিস্তানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণের উপর শুরু হয় পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতন। ফলে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে প্রকট আকার ধারণ করে। পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর অপশাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার আন্দোলন তীব আকার ধারণ করে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যদ্ধু শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সামরিক দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের অসহায় অবস্থা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তির লক্ষে শুরু হয় স্বাধিকারের আন্দোলন। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্র“য়ারি লাহোরে বিরোধী দলের এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ কর্মসূচি পেশ করেন। ছয় দফা কর্মসূচিকে তিনি ‘পূর্ব বাংলার বাঁচার দাবি’ বলে অভিহিত করেন। বাংলাদেশের জন্য ছয় দফা আন্দোলন এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে একে ম্যাগনা কার্টা বা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ নামে অভিহিত করা হয়।

১৯৭০ সাল (সাধারণ নির্বাচন)

১৯৭০ সালের নির্বাচন ও একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন বাঙালির জাতিসত্তার প্রেক্ষাপটে জাগরণের শক্তি হিসেবে উদ্ভাসিত হয়ে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দুই আন্দোলনে মানবিক চেতনায় উদ্দুবদ্ধ হয়ে বাঙালির আত্মজাগরণের জায়গা নির্ধারণ করেছিলেন । এই দুটো জায়গায় নিজের ভূমিকাকে আত্মপ্রত্যয়ী চেতনায় উদ্বদ্ধ করে বাঙালির মানসপটে বিপুলভাবে আত্মজাগরণের দরজা ধা দেন। বাঙালি এুঁক্যবদ্ধ হয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করে। সত্তরের নির্বাচন ও অসহযোগ আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমান বিপুল সাহসী চৈতন্য ঐক্যবদ্ধ বাঙালির তোরণ উন্মোচন করেন।

রাজনোতিক দল রাজনাতির মাঠের আসর সরগরম করে তোলে । কিন্তু যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না । সেপ্টেম্বর মাসে প্রবল বন্যা হওয়ায় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে । ইয়াহিয়া খান নির্বাচন পিছিয়ে দেন । জাতীয় পরিষদের ৭ ডিসেম্বর এবং প্রাদেশিক পরিষদের ১৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়। ১৯৭০ সালের ১২-১৩ নভেম্বর পূর্ব বাংলার দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ জলোচ্ছাস ও ঘূর্ণিঝড় হয় | প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া এই ঘৃর্ণিঝড়ে কোনো সাহায্য করেন নি।

বঙ্গবন্ধু ত্রাণ নিয়ে ত্রাণকাজে নিজেকে যুক্ত করেন। এই ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ লোক মৃত্যুবরণ করে । ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এলাকায় । এরপর ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে আওয়ায়ী লীগ বিজয় লাভ করে।সন্তরের সাধারণ নির্বাচন ছিল বাঙালির প্রাণের জোয়ার | এই জোয়ারের প্রবল ঢেউয়ে সাধারণ মানুষকে মাতিয়ে তোলেন বঙ্গবন্ধু শেক মুজিবুর রহমান।

মু্ক্তিযুদ্ধে প্রেরণাকারী ঘটনাঃ

আমি মনে করি, ১৯৭০ সালের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অধিকতর প্রেরণা যুগিয়েছিল। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় এবং প্রাদেশিক পরিষদ নিবচিনে আওয়ামী লীগ নিরস্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ফলে ৬ দফা ১১ দফার প্রতি জনগণের অকুষ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় । বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক বিজয় ঘটে । অন্যদিকে, পাকিস্তানের সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য এটি ছিল বিরাট পরাজয়। তারা বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যূদয়ের পিছনে নির্বাচনের অপরিসীম শুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে । এই নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র দানে বিশাল ভুমিকা রাখে । পরিণতিতে স্বাধীন-সাবভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভূদ্যয় ঘটে

Class 6 Assignment Answer 2022 PDF, HD Pictures

Class 7 Assignment Answer 2022 PDF, HD Pictures

Class 8 Assignment Answer 2022 PDF, HD Pictures

Class 9 Assignment Answer 2022 PDF, HD Pictures

৯ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট প্রশ্নের সমাধান

নবম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সমাধান দেখুন। আমরা দিয়েছি নবম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বিজ্ঞান উত্তর সহ। নবম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ২০২২ সবার সাথে শেয়ার করুন। ৯ম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট ২০২২ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সবার অনেক দরকারি। নবম শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সমাধান ২০২২ দেখুন নিচে থেকে।

সর্বশেষ কথা

আশা করি আমাদের পোস্টের মাধ্যমে নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান জানতে পেরেছেন। এবং অবশ্যই আজকের এই পোস্ট সবার সাথে শেয়ার করবেন যাতে সবাই নবম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এসাইনমেন্ট উত্তর জানতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহের সকল বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করবেন।

সকল অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান জানতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

সকল এসাইনমেন্ট সল্যুশন

আরও দেখুনঃ

 নবম (৯ম) শ্রেণীর অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

নবম শ্রেণির বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান ‌২০২২

নবম শ্রেণির বিজ্ঞান এসাইনমেন্ট সমাধান ‌২০২২

তিনবেলার খাবার টিফিন ও বিকালের নাস্তা

অষ্টম (৮ম) শ্রেণীর খ্রিষ্টধর্ম অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান ২০২২

Tech Tips

টিপস নেট বিডি সকল ধরনের প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কাজ করে। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক, কৃষি, প্রযুক্তি, বিনোদনমূলক, কুইজ প্রতিযোগিতা, পরীক্ষার রেজাল্ট। সকল ধরনের তথ্য দিয়ে আমরা সাহায্য করে থাকি। নতুন তথ্য পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button